অন্তরালে একজন আরাফাতুল আলম মাত্র ১ বছরে পাল্টে গেছে পাইকগাছার ভূমি সেবার চিত্র

0
287

শেখ নাদীর শাহ্:
দীর্ঘ দিনের ভূমি সমস্যা সমাধানে প্রাণ ফিরেছে পাইকগাছা উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে। বিভিন্ন সময়ের ভূমি জটিলতায় এখন আর দালালদের উপদ্রব নয়, সরাসরি কাজ হচ্ছে ভূমি অফিসে। কাংখিত সেবা পেতে ছেঁড়া বসন আর অর্থ হীনতা এখন কোন অন্তরায় নয়। সকলের অভিযোগ-অনুযোগের কথা মনোযোগ সহকারে শুনে যত দ্রুত সম্ভব কাজ করছেন, সহকারী কমিশানার (ভূমি) আরাফাতুল আলম। ভূমি সেবা সহজতর করতে নানামুখি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বিভিন্ন লিফলেট ও প্রচার পত্র বিতরনে উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমি সমস্যা ও তার সমাধানে বেড়েছে সচেতনতা। ফলে কোন প্রকার ভোগান্তি ও হয়রাণি ছাড়াই করোনা কালের ভূমি সেবা পৌছে গেছে সাধারণের দোরগড়ায়। ২০১৯ সালের ২ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২ অক্টোবর। মাত্র ১ বছরের ভূমি সেবা মূল্যায়নে সাধারণ মানুষের মধ্যে অতীতের সকল তিক্ত অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে। তবে বসে নেই বদলে যাওয়া ভূমি সেবার কারিগর, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: আরাফাতুল আলম। তিনি কাজ করে যাচ্ছেন, নতুন উদ্যমে দূর্বার গতিতে। মাত্র এক বছরে বদলে যাওয়া পাইকগাছা ভূমি অফিসের প্রধান কারিগর ও সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া নিয়ে দৈনিক খুলনা টাইমসের জন্য আজকের বিশেষ প্রতিবেদন।
করোনাকালে সামাজিক নিরাপত্তায় বেড়েছে সচেতনতা। উপজেলা কেন্দ্রীক অফিস সমূহেও বিরাজ করছে ছুটির আমেজ। তবে এত সব নিরাপত্তার চাদরেও এক দিনের জন্য হলেও বন্ধ ছিলনা ভূমি অফিসের কার্যক্রম। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির অবাধ অগ্রগতির যুগে সাধারণ মানুষ ভূমি সেবা পাচ্ছেন, হট লাইনে। সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের রেকর্ডও হয়েছে গত এক বছরে।
প্রসঙ্গত, একটা সময় সাধারণ মানুষের কাছে ভূমি অফিস ছিল, দূর্নীতির আখড়া। ভূমি জটিলতায় হয়রাণির পাশাপাশি, কাংখিত সেবা পেতে সাধারণ মানুষ শরনাপন্ন হতেন দালালদের। যার প্রতি পরখে পরখে ছিল সীমাহীন দূর্নীতি-অনিয়ম, হয়রানি আর ভোগান্তি। চুক্তিভিত্তিক সেবায় মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের গুণতে হত মোটা অংকের টাকা। এরপরও যথা সময়ে মিলতনা কাংখিত সেবা। কখনো কখনো মার যেত সমুদয় টাকা। এক কথায় তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারি থেকে শুরু করে সেবা প্রত্যাশী সাধারণ মানুষ। তবে পরিবেশ-পরিস্থিতি বদলেছে। ভূমি অফিসের চির চেনা সেই চিত্র এখন আর নাই।
২০১৯ সালের ২ অক্টোবর উপজেলা সহকারী কশিনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম। যোগদানের পর থেকেই ভূমি সেবায় বাজিমাত করেছেন তিনি। সাধারণ মানুষের কাছে ভূমি সেবা পৌছে দিতে নিত্য নতুন পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রচারপত্র বিতরণ থেকে শুরু করে নানামুখী পদক্ষেপ গত এক বছরে ভূমি অফিসকে জনবান্ধব ভূমি অফিসে রুপ দিয়েছেন। ভূমি সেবা জনগনের দোর গোড়ায় পৌছে দিতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে মাসিক বিশেষ ভূমি সেবা ক্যাম্প অব্যাহত রেখেছেন। জনসচেতায় প্রকাশ করেছেন “ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ভূমি সেবা বিষয়ক অবহিতকরণ “ভূমির জন্য ১৫ মিনিট” ও ই-নামজারি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরণের লিফলেট।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ ভূমি সেবা ক্যাম্পের আয়োজন করেন। যা উদ্বোধন করেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। শতভাগ ই-নামজারি কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ দ্রুত সেবা পাচ্ছেন। শুনানী ও গন শুনানীসহ নানা কার্যক্রমে সেবা গ্রহীতার সাথে ভূমি কর্মকর্তার দুরত্ব চলে এসেছে শূণ্যের কোঠায়। ফলে ভূমি সংক্রান্ত যেকোন ধরনের প্রতিকার পাচ্ছেন অতি সহজেই।
সেবা গ্রহিতা মোঃ শহীদুল ইসলাম বলছিলেন, চলতি বছর তিনি ৪টি মিউটেশন করেছেন। তবে এর জন্য ভূমি অফিসের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী তার কাছে কোন প্রকার উৎকোচ দাবি করেনি। হয়রাণির শিকারও হননি তিনি।
উপজেলার বান্দিকাটি গ্রামের আব্দুস সাত্তার সরদার বলছিলেন, বর্তমান উপ-সহকারী কমিশনারের হস্তক্ষেপে উপজেলা এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিস এখন দালালমুক্ত।
শিবসা সাহিত্য অঙ্গনের সভাপতি সুরাইয়া বানু ডলি জানান, আরাফাতুল আলম একজন ভদ্র ও সদালাপী মানুষ। প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার মত ভদ্র, দক্ষ ও মানবিক কর্মকর্তার প্রয়োজন। শুধু এখানেই শেষ নয়, ভূমি সেবার পাশাপাশি করোনাকালীন সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে সর্বদাই তৎপর রয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে একদিকে যেমন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছেন, অন্যদিকে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ত্রাণ সামগ্রী পৌছে দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
ভূমি সচিব মাকসুদুর রহমান পাটোয়ারী ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের নির্দেশনায় এবং ইউএনও এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীর সহযোগিতায় উপজেলা ভূমি অফিসসহ ইউনিয়নের সকল ভূমি অফিসে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছেন। করোনার সময়ে কোন মানুষ যাতে ভূমি সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় তার জন্য তিনি ৪টি হট লাইনের মাধ্যমে সন্ধ্যা ৭ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত ১ ঘন্টা সাধারণ মানুষকে ভূমি সেবা সংক্রান্ত সেবা ও পরামর্শ প্রদান করেছেন। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও সফল হয়েছেন তিনি। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে তিনি ১কোটি ৭৭ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকার সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড গড়েছেন। আরাফাতুল আলম প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সৃজনশীল কাজেও রয়েছে তার দক্ষ হস্তষ্পর্শ। ইতোমধ্যে তাঁর লেখা বঙ্গবন্ধু ও বই পড়া সংক্রান্তে অনেক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বইপড়ি মনগড়ি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার একটি পেইজ রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি তরুন প্রজন্মকে বই পড়তে উৎসাহিত করতে নিরব আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ২ অক্টোবর ২০’ দায়িত্ব গ্রহণের বর্ষপূতিতে তাকে সাধারণ মানুষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা জানান দেয় সাধারণ মানুষের ভাল থাকা ও তার অবস্থান সম্পর্কে।