অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে হাতে-নাতে আটকের পর ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে

0
698

মোংলা প্রতিনিধি:
মোংলার দত্তেরমেঠ এলাকার এক আওয়ামী লীগ নেতার ভাইপোকে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে হাতে-নাতে আটকের পর ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘর থেকে ওই দুই যুবক-যুবতীকে আটক করলেও পরবর্তীতে রহস্যজনক কারণে ছেড়ে দেয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয় (মিঠাখালী) ইউপি চেয়ারম্যান ই¯্রাফিল হাওলাদার বলেন, উভয়ের অভিভাবকদের ডেকে বিয়ে দিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পর পুলিশ কেন ছেড়ে দিয়েছেন তার কোন কিছুই জানেন না তিনি।
গ্রামবাসী জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক উৎপল মন্ডলের ভাইপো অনিক মন্ডল (২৬) বৃহস্পতিবার সকালে দত্তেরমেঠের একটি ফাকা বাড়ীতে বান্ধবী পরিচয়ে এক মেয়েকে নিয়ে দুপুর পর্যন্ত অবস্থান করিছল। এ সময় আশপাশের লোকজন পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ওই ঘরে গিয়ে অনিক ও তার বান্ধবীকে পেয়ে হাতে নাতে আটক করে। পুলিশের কাছে অনিক মেয়েটিকে বান্ধবী বলে পরিচয় দেয়। ওই সময় ওই ঘরটিতে অন্য কোন লোকজন ছিল না। এ ঘটনায় মোংলা থানা পুলিশের এসআই গোলাম মোস্তফা বলেন, ছেলে-মেয়ে উভয়ের সম্মতিতে একই ঘরে অবস্থান করছিল এবং এ নিয়ে স্থানীয় দলাদলি থাকায় তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে বলেন, অনিক ওই মেয়েটিকে নিয়ে প্রায়ই তার চাচা স্বপনের ঘরে দীর্ঘদিন ধরে নানা সময়ে অবস্থান করে থাকতেন। মেয়েটির সাথে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা ও বিয়ের কথা রয়েছে বলে দাবী অনিকের। পুলিশ অনিককে ওই মেয়েসহ আটকের পর স্থানীয়ভাবে তাদের বিয়ে দিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও রহস্যজনক কারণে ছেড়ে দেয়ায় পুরো গ্রাম জুড়ে নানা গুঞ্জন চলছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অনিকের অনৈতিক কার্যকলাপের পরও চাচা উৎপল মন্ডলের প্রভাবের কারণেই পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও অনিকের চাচা উৎপল মন্ডল বলেন, অনিকের সাথে ওই মেয়েটি একসাথে পড়াশুনা করে সেই ক্ষেত্রে সে অনিকের কাছে বেড়াতে আসতেই পারে। বেড়াতে আসাতেই আশপাশের লোকজন এনিয়ে পুলিশকে খবর দিয়ে বিশেষ করে আমাকে হেয় ও হয়রানী করার জন্য মুলত এটা করেছে বলে আমি মনে করছি। অনিকের চাচা স্বপন মন্ডল বলেন, ঘটনাটি আমার ঘরে ঘটলেও এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা, কারণ আমি বাড়ীতে ছিলাম না, আর বাড়ী আমার স্ত্রীও ছিলনা। ঘরটি ফাকা ছিল আর চাবি অনিকের কাছেই ছিল। পরে এসে শুনতে পেলাম আমার ঘরে অনিক একটি মেয়েকে নিয়ে ছিল এবং পুলিশও এসেছিল।