অনেকে রাত থেকে, অনেকে ভোর থেকে টিকিটের লাইনে

0
456

অনলাইন ডেস্কঃ

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে চলছে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। বিক্রির তৃতীয় দিন ভিড়ও বেড়েছে। টিকিটপ্রত্যাশী নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোর থেকে অনেকে লাইন ধরেছেন। অনেকে লাইনে আছেন গতকাল রোববার বিকেল বা সন্ধ্যা থেকে। সকাল আটটা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। সকালে পুরুষদের কাউন্টারে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

নারীদের কাউন্টারেও ভিড় ছিল বেশি। মানুষের দীর্ঘ সারি কাউন্টার থেকে স্টেশনের সিএনজি চালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড পর্যন্ত গিয়ে ঠেকে। সকাল থেকে লাইন ভেঙে টিকিট নেওয়া বা কালোবাজারে টিকিট বিক্রির কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

আজ পাওয়া যাচ্ছে ১৩ জুনের আগাম টিকিট। অনেকে ১৪ জুন বৃহস্পতিবার একদিন ছুটি নিয়েই ঢাকা ছাড়বেন। এ জন্য টিকিট কিনতে আজ কমলাপুরে মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ যাবেন চট্টগ্রাম। তিনি গতকাল রোববার রাত তিনটায় এসে আজ সকাল দশটায় দুটি টিকিট পেয়েছেন। কাঙ্ক্ষিত টিকিট হাতে পেয়ে বললেন, ‘ঈদের সময় চট্টগ্রামে বাসে করে যেতে রাস্তায় অনেক জ্যামে পড়তে হয়, বসে থাকতে হয়। এ জন্যই ট্রেনের টিকিট নিতে আসা। কষ্টটা সার্থক হবে যখন ট্রেনে বাড়ি ফিরবে।’

অনেকে আবার কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পেয়ে আফসোস করছিলেন। বেসরকারি চাকরিজীবী মাকসুদুল আলম ১৩ জুন বাড়ি যাবেন। ১৪ জুন বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়েছেন। তিনি গতকাল বিকেল চারটায় স্টেশনে আসেন। প্রথমে নিজের সিরিয়াল রেখে যান। পরে রাত ১২টার দিকে আবার আসেন। এতটা সময় দাঁড়িয়ে তিনি কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাননি। তাপানুকুল চেয়ারের চারটি টিকিট চেয়ে তিনটি কিনতে পেরেছেন। অথচ লাইনে তাঁর সিরিয়াল ছিল ৪২ নম্বর। মাকসুদুল প্রথম আলোকে বলেন, সারারাত স্টেশনে ছিলাম, কোথাও যাইনি। তবু কাঙ্ক্ষিত টিকিট পেলাম না।

এবার ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে ১ জুন থেকে। এটি চলবে ৬ জুন পর্যন্ত। আগামীকাল ৪ জুনে পাওয়া যাবে ১৩ জুনের টিকিট। তেমনি ৫ জুন ১৪ জুনের ও ৬ জুন ১৫ জুনের টিকিট দেওয়া হবে। ফিরতি টিকিট ১০ জুন থেকে ছাড়া হবে।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্ত্তী বলেন, প্রতিবছরের মত ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি চলছে। আজ দেওয়া হচ্ছে ১৩ জুনের টিকিট। টিকিট কাউন্টারগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। সকাল আটটা থেকে টিকিট দেওয়া চলছে, যতক্ষণ কাউন্টারে টিকিট থাকবে, ততক্ষণ দেওয়া হবে।

কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সীমিত সম্পদ দিয়ে কিন্তু সবাইকে খুশি করা যায় না। আমরা যতক্ষণ পারব চেষ্টা করব দেওয়ার।’
রেলওয়ে সূত্র বলছে, আজকে ২৭ হাজার ৪৬১টি টিকিট বিক্রি হবে। আশা করছি, মানুষ দাঁড়ালে টিকিট পাবে।

ঈদে ট্রেনে শিডিউল বিপর্যয় নিয়ে সিতাংশু চক্রবর্ত্তী বলেন, গতবার দুই থেকে একটি ট্রেন ছাড়া আমরা ভালোভাবেই চালিয়েছি। এবারও আমরা চেষ্টা করব যাতে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় না হয়। কারণ, কেউই দেরিতো পৌঁছাতে চায় না।

রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে ২৬টি কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি চলছে। এর মধ্যে দুটি কাউন্টার নারীদের জন্য সংরক্ষিত। একজন যাত্রীকে একসঙ্গে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট দেওয়া হচ্ছে। এই টিকিট ফেরত নেওয়া হবে না। মোট টিকিটের ৭৫ শতাংশ কাউন্টারে, আর বাকি ২৫ শতাংশ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।

স্টেশনে নারীদের দুটি কাউন্টার আছে। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, নারীদের বরাদ্দ করা একটি কাউন্টারে টিকিট বিক্রি বন্ধ আছে। কাউন্টারে পরিবেশ নিয়ে অনেকেই অভিযোগ করেন।

এ প্রসঙ্গে স্টেশন ম্যানেজার বলেন, আজকেও নারীদের জন্য দুইটা কাউন্টার হয়ে যাবে, কোনো সমস্যা নাই। একটা কাউন্টার আছে, আরেকটা কাউন্টার হয়ে যাবে কিছুক্ষণের মধ্যে। ঢাকা স্টেশনে ৩২টি সিসি ক্যামেরা কার্যকর আছে। এ ছাড়া রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, রেলওয়ে পুলিশ, আর্মড ব্যাটালিয়ন, র‍্যাব নিয়োজিত।