অদম্য মেধাবী রাজুর পাশে খুলনা জেলা প্রশাসক

0
375

সুমন আহমেদ :

ইজাজুল ইসলাম রাজু। সদ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। ওরা খুবই গরীব। বাবা সামান্য একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর মা গৃহিণী। যশোরের কেশবপুরে বাড়ি তার। কিন্তু ভালভাবে পড়াশুনা করতে হবে, ভালো ফলাফল বয়ে আনতে হবে। তাইতো সংগ্রাম করে কষ্টে অর্জিত অর্থে খুলনার মৌলভীপাড়ার একটি মেসে থাকে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুলনা জেলা প্রশাসকের নজরে আসে ‘অর্থাভাবে কি ঢাবিতে ভর্তি হতে পারবেন না রাজু’? শীর্ষক সংবাদটি। আর এতেই তাৎক্ষণিক তিনি নির্দেশ দিলে খোঁজ-খবর নিতে শুরু করেন জেলা প্রশাসন এর কর্মকর্তারা।রাজুকে জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করতে বলা হয়। সে এসে জীবনের গল্প বলে। প্রশাসনের এই কর্মকর্তারা শোনেন রাজুর সংগ্রাম গাঁথা জীবন কাহিনী।

কিভাবে সে পড়াশুনার জন্য অর্থ যুগিয়েছে? কতটা কষ্ট করে শ্রমের বিনিময়ে পরিশোধের শর্তে টাকা ধার করে, সে ভর্তি পরীক্ষার জন্য ঢাকাতে যায়। এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় নিজের যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে বাংলা বিষয়ে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করে।

সব শুনে রাজুর অদম্য চলার পথে সহযোগিতার জন্য জেলা প্রশাসক হাত বাড়িয়ে দেন। দায়িত্ব নেন রাজুর ভর্তি হওয়ার সকল ব্যয়ভার বহনের। আজ ২২ নভেম্বর জেলা প্রশাসক রাজুর হাতে ভর্তি হওয়ার জন্য নগদ অর্থ তুলে দেন। সাথে হাতে তুলে দেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত ‘অসমাপ্ত আত্নজীবনী’।

খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজুকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানানো হয়। নিশ্চয় রাজুর হাত ধরে একদিন মাতৃভাষা বাংলার শুদ্ধ চর্চা হবে। রচিত হবে আরেকটি চর্যাপদ কিংবা গীতাঞ্জলী। রাজু একদিন হবে আলো হাতে আঁধারের যাত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনটাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ  আমিন উল আহসান।

উল্লেখ্য, এর আগেও রাজুর মতন মেধাবী শিক্ষার্থীদের অদম্য চলার পথে পাশে দাড়ান খুলনার এই জেলা প্রশাসক। রাখেন মানব সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত। তাইতো বাক প্রতিবন্ধী রোকসানা, এক শারীরিক প্রতিবন্ধী, ক্রিসেন্ট অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-ভিক্ষুক আকবর আলী, কিশোরী হেনা ও মুয়াজ্জিন মনজুরের ন্যয় আবারও রাজুর অদম্য চলার পথে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন।

আর এসব নিয়ে বরাবরের মতন তার মহান কাজের জন্য ফেসবুকে প্রশংসা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন আপামর সাধারণ মানুষ।

পল্লব কুমার নামের একজন লিখেছেন, একটি মহতি উদ্যোগ স্যার। এভাবে আমরা যদি অসহায়দের পাশে দাড়াই, তাহলে সত্যিকার অর্থে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। স্যালুট স্যার।

আরিফ খান চৌধুরী মন্তব্য করেন, একজন পদস্থ ব্যক্তি এই ধরনের মহানুভবতায় পাল্টে দিতে পারে গোটা সমাজকে। আপনার এই দৃষ্টান্ত হউক সকলের জন্য শিখনীয়। মোট কথা সেবাই মহতের কর্ম।