সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ সাত মাস আগেই দেয়া হয়

0
36

খুলনাটাইমস ডেস্ক: গত তিন জানুয়ারি বাগদাদ বিমান বন্দরের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র কুদস ব্রিগেডের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকের জনপ্রিয় হাশদ আশ-শাবি’র উপপ্রধান আবু মাহদি আল মুহান্দিস। সোলাইমানি মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিলেন এমন অভিযোগ তুলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ওই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় কয়েক মাস আগে থেকেই ওয়াশিংটন সময় সুযোগ মতো এ ধরনের হত্যাকাণ্ড চালানোর অপেক্ষায় ছিল। মার্কিন এনবিসি টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত জুনে অর্থাৎ প্রায় সাত মাস আগে জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশে দিয়েছিলেন। এতে আরো বলা হয়েছে, অবৈধভাবে ইরানের আকশসীমায় প্রবেশের দায়ে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী পারস্য উপসাগরে মার্কিন অত্যাধুনিক গ্লোবাল হক ড্রোন ভূপাতিত করার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান কিংবা দেশটির অনুগত সশস্ত্র কোনো গ্রুপ যদি মার্কিন সামরিক কিংবা বেসামরিক কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করে তাহলে ইরানের জেনারেল সোলাইমানিকে যেন হত্যা করা হয়। ট্রাম্প গত রোববার কোনো দলিল প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন, সোলাইমানি বিশ্ব শান্তির জন্য একজন ভয়ঙ্কর ব্যক্তি হয়ে উঠছিলেন বলে তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ট্রাম্প এও দাবি করেন, জেনারেল সোলাইমানি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এবং আমেরিকার অন্তত চারটি দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। ট্রাম্প আরো বলেন, আরো ২০ বছর আগে সোলাইমানিকে হত্যা করা উচিত ছিল। এসব কথাবার্তা বলে ট্রাম্প তেহরানের ব্যাপারে তার ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন কিনা সেটাই প্রশ্ন। ট্রাম্প প্রশাসন চীন ও রাশিয়ার ব্যাপারেও একই নীতি নিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, সোলাইমানিকে হত্যার মাধ্যমে আমেরিকার একজন শত্রুকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে যে কিনা প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং চীন ও রাশিয়ার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও দাবি করেন, ডেমোক্রেটরা রাজনৈতিক কারণে সোলাইমানিকে সমর্থন দিচ্ছে যা আমেরিকার জন্য কেলেঙ্কারি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। মার্কিন কর্মকর্তারা বহুবার দাবি করেছেন, দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনার কারণেই সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে আজ থেকে সাত মাস আগেই তিনি এ হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বাস্তবতা হচ্ছে, আমেরিকা একইসঙ্গে এমন দুই প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে যারা দায়েশ বা আইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এবং তারা এ অঞ্চলে মার্কিন প্রভাব বিস্তারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাই ট্রাম্প সুযোগ হাত ছাড়া না করে ইরাক ও ইরানের এ দুই কমান্ডারকে হত্যা করে। এমনকি এ হত্যাকাণ্ডের কি পরিণতি হতে পারে সেটাও তিনি বিবেচনায় আনেননি। ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের জবাবে ইরানও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পার্স টুডে


একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here