সোনামসজিদ ও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু

0
35

খুলনাটাইমস: রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার পাঁচ দিন পর ভারতের মহদিপুর স্থলবন্দরে আটকেপড়া পেঁয়াজ গতকাল শুক্রাবর থেকে আসতে শুরু করেছে। গতকাল শুক্রাবর দুপুর ১২টার পর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজভর্তি ট্রাক আসা শুরু হয়। বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ জানান, বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভারতীয় ৫৫টি ট্রাক পেঁয়াজ নিয়ে প্রবেশ করেছে স্থলবন্দরে। সারা দিনে ২০০টি পেঁয়াজের ট্রাক পাঠাবে বলে ভারতীয় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা জানিয়েছেন। সে হিসাবে আরো ১৪৫ ট্রাক পেঁয়াজ ঢুকবে। মোস্তাক আহমেদ আরো জানান, ভারতের মহদিপুরে দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি শুরু হলেও বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠানো হচ্ছে পেঁয়াজ। বন্দর সূত্র জানিয়েছে, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করার পরপরই ভারতের মহদিপুর স্থলবন্দরে কয়েকশ পেঁয়াজভর্তি ট্রাক আটকা পড়ে। কয়েক দিন অপেক্ষমাণ থাকার কারণে এসব পেঁয়াজে পচন ধরা শুরু হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গতকাল শুক্রাবর থেকে সেসব পেঁয়াজ আসা শুরু হয়েছে।
এদিকে, রপ্তানির অনুমতি দেওয়ায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আসা শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রাবর দুপুর ১২টা ২০ মিনিট থেকে পেঁয়াজবোঝাই ভারতীয় ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করে। ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সনজিৎ মজুমদার ওই তথ্য জানান। হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী মোরশেদুর রহমান ও নাজমুল হক জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ব্যাপক বন্যায় পেঁয়াজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে ভারতে পেঁয়াজের সংকট সৃষ্টি হলে দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়। অভ্যন্তরীণ মজুদ স্বাভাবিক রাখতে এবং জনদুর্গতি ঠেকাতে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এ অবস্থায় সীমান্তের ওপারে প্রায় ৬০টি ট্রাকে দেড় হাজার টন পেঁয়াজ আটকে থাকে। এ নিয়ে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ভারতের ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। পাঁচ দিন পর আগের এলসি করা পেঁয়াজ বাংলাদেশে রপ্তানি করার অনুমতি দেওয়া হয়। ওই ব্যবসায়ীরা আরো জানান, কয়েক দিন ধরে পেঁয়াজের বস্তা ট্রাকে বাঁধা অবস্থায় ছিল। ফলে অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা নূর আমিন বলেন, আজ (গতকাল শুক্রাবর) সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও দুই দেশের ব্যবসায়ীদের অনুরোধে শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। কারণ পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানি হয়ে আসা পেঁয়াজের চালান দ্রুত খালাস করা হচ্ছে। যাতে ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি দ্রুত বাজারজাত করতে পারেন। এদিকে আমদানি হয়ে আসা পেঁয়াজ বন্দরের মোকামগুলোতে মানভেদে ৮০-৯০ টাকা কেজিতে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।


একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here