শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণ অর্জনে সহযোগিতার ওপর রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের গুরুত্বারোপ

0
153

তথ্য বিবরণী: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ব্যাপকভিত্তিক প্রশিক্ষণ অর্জনে জাতিসংঘ সদরদপ্তর, সদস্য রাষ্ট্রসমূহ ও শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশসমূহের মধ্যে সুদৃঢ় ত্রি-পক্ষীয় সহযোগিতা বিনির্মাণের ওপর জোর দিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গতকাল ‘শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বিনির্মাণ’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোমেন ।
স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, শান্তিরক্ষীগণ বহুমুখী ও জটিল রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশে কাজ করে থাকেন। এজন্যই এই ব্যাপকভিত্তিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বিনির্মাণের এ আলোচনায় তিনি তিনটি বিষয়ের অবতারণা করেন। বিষয় তিনটি হলো: ১) প্রশিক্ষণের অগ্রাধিকারসমূহ, ২) অংশীদারিত্ব এবং ৩) অনুশীলন।
প্রশিক্ষণের অগ্রাধিকার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বাংলাদেশের অগ্রাধিকারসমূহ বিশেষ করে যৌন সহিংসতা ও এর অপব্যবহার রোধে শান্তিরক্ষীদের পদায়নপূর্বক প্রশিক্ষণ প্রদানের কথা উল্লেখ করেন। অংশীদারিত্ব বিষয়ে তিনি বাংলাদেশের সাথে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ড ও জাতিসংঘের পিস কিপিং অপারেশন বিভাগের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে গৃহীত ও গৃহীতব্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের উদাহরণ দেন। যৌন সহিংসতা ও এর অপব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো-টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ। শান্তিরক্ষী সৃষ্ট যে কোনো ধরণের যৌন অপব্যবহার ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ মহাসচিবের জিরো টলারেন্স নীতির প্রতিও তিনি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনরুল্লেখ করেন। এছাড়া, জাতিসংঘ মহাসচিবের শান্তি ও নিরাপত্তা সংস্কার পদক্ষেপ, অ্যাকশন অন পিসকিপিং এজেন্ডা, জাতিসংঘের পিস অপারেশন বিভাগের লিঙ্গসমতা কৌশল ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিশ্রুতিসমূহের প্রতি বাংলাদেশের সুদৃঢ় সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শান্তিরক্ষী সৃষ্ট যৌন অপব্যবহার ও সহিংসতা প্রতিরোধে গঠিত ‘সার্কেল অভ লিডারশীপ’ এর একজন সদস্য। ২০১৮ সালে নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ ৫ম স্থান অধিকার করেছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের চলতি মে মাসের সভাপতি ইন্দোনেশিয়া এ উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে। উদ্বোধনী ভাষণ দেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ। মহাসচিব তাঁর ভাষণে ব্যাপকভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট ম্যান্ডেটগুলোর উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণের ওপর জোর দেন। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরাষ্ট্রসহ ৬০টিরও বেশি দেশ এ উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেয়।


একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here