‘রিপনকে মৃত অবস্থায় অন্য হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয় খালিশপুর ক্লিনিকের চিকিৎসক!

0
398

নিজস্ব প্রতিবেদক:
খালিশপুর ক্লিনিক এ- ডায়াগণস্টিক কমপ্লেক্স এর কর্তব্যরত চিকিৎসকই আমার ছেলেকে মৃত হিসেবে ডেট সার্টিফিকেট দিছে।’ তাদের দেয়া ডেট সার্টিফিকেটে উল্লেখ আছে ভোর ৪টায় রিপন মারা গেছে।’ ‘আমার রিপনকে মৃত অবস্থায় খালিশপুর ক্লিনিকের ডাক্তার অনত্র্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরমার্শ দিলো। এমন প্রশ্ন তোলেন রিপনের পিতা শওকত হোসেন। গতকাল সোমবার মৃত মোঃ মুনির হোসেন ইসতিয়াক ওরফে রিপন এর পিতা মোহাম্মদ শওকত হোসেন এ প্রতিবেদককে আরো বলেন, রিপন ক্রিকেট ও মাছ ধরার খুব নেশা ছিলো। শুক্রবার হলেই মাছ ধরতে চলে যেতো। এলাকায় কোন বাজে আড্ডা ছিলো না।
এ ব্যাপারে খালিশপুর ক্লিনিক এ- ডায়াগণস্টিক এর স্বত্বাধিকারী বিশেষজ্ঞ সার্জন ও চিকিৎসক ডাঃ কাজী মুজাহিদুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, রিপর বুকে ব্যাথা জনিতকারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। আমাদের এখানে রিপন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। বিষয়টি তার এক স্বজনকে জানানো হয়েছে। ঝামালা এড়াতে মৃত রিপনকে অন্যত্র হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছিলো। তিনি বলেন, রিপনকে নিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের ডাঃ সুজাউদ্দিন ওরফে সোহাগকে তারা জোর করে তুলে নিয়ে যায়। তারপর তাকে বেধরক মারপিট করে রোগীর স্বজনরা। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) নগরীর খালিশপুর থানাধীন ৬৬/১ মুজগুন্নী শেখ পাড়া রিপনের বাসায় গেলে রিপনের পিতা শওকত হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, বুকে ব্যাথা অবস্থায়জনিত কারণে তাকে খালিশপুর ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক রিপনকে একটা ১ হাজার এমএল স্যালাইন পুশ করেন। মাত্র ২৪ মিনিটে স্যালাইনটি শেষ হয়ে যায়। এরপর রিপন উঠে দাড়িয়ে হাটা চলা করে। কিছুক্ষুন পর রিপনের সারা শরীর ঘামতে থাকে। তখন সে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে সময় চিকিৎসক তাকে একটা ইনজেকশন পুশ করেন। তখন ডাঃ ডাঃ সুজাউদ্দিন তাকে অন্যত্র হাসপাতালে ভর্তির জন্য নেওয়ার জন্য বলেন। আমার ছেলেকে যখন ওই হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়, তখনই তারা আমার ছেলের ডেট সার্টিফিকেট দেন। এরপরই জানলাম আমার ছেলে আর বেচে নেই। রিপনের খালা সুলতানা এ প্রতিবেদককে বলেন, যখন রিপন পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়ে তখনই ওই ডাক্তার বলেন আপনারা তাকে (রিপন) সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তখন আমি বলি আমরা তো নিয়ে যাবো তাহলে এখানে কি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে তার একটা কাগজপত্র দেন। তখনই ডেট সার্টিফিকেট ধরিয়ে দেন। তার আগেই রিপনকে রিফার্ড করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, মৃত লাশকে রিফার্ড করা হয়েছে।
৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এমডি মাহফুজুর রহমান লিটন এ প্রতিবেদককে বলেন, রিপন এলাকায় খুব ভদ্র ছিলো। সে ক্রিকেট খেলতো। জাতীয় ক্রিকেট দলের অনুর্ধ্ব লিষ্টে ছিলেন। পাশাপাশি তার মাছ ধরার খুব নেশা ছিলো। তিনি আক্ষেপ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, খালিশপুর ক্লিনিকে বিরুদ্ধে এর আগেও অনেক অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। সঠিক চিকিৎসার জন্য ডাক্তার না থাকলেও রোগীকে ভর্তি করাতো। যে রোগীর জন্য ডাক্তার প্রয়োজন সেই ডাক্তার যদি না থাকে তাহলে তারা অন্যত্র রিফার্ড করবেন। এটাই নিয়ম। সব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকই ওই ক্লিনিকে আছে এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, রিপনের ডেট সার্টিফিকেটের বানান ভুলে ভরা। যেখানে ডেট সার্টিফিকেট ঠিকমত লিখতে পারে না, সেখানে চিকিৎসকদের অবস্থা কেমন তাতো বুঝাই যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মল্লিক মনিরুল হক বলেন, রিপনকে জন্ম হওয়ার পর থেকেই আমাদের চোখের সামনে বেড়ে ওঠে। তার কোন বাজে বন্ধু-বান্ধব নেই। সে খুব ভালো ক্রিকেটার ছিলো। কাশেস স্মৃতি স্পোর্টিং ক্লাবে নিয়মত খেলতো। ওর মতো ভদ্র ছেলে এলাকায় একটা খুজে পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। তার এই অকাল মৃত্যু কোন ভাবেই এলাকাবাসী মেনে নিতে পারছে না।
এ প্রতিবেদকের কাছে রিপনের ডেট সার্টিফিকেট হাতে এসে পৌছায়। সেখানে দেখা গেছে রিপনকে ভোর ৪টায় মৃত উল্লেখ করা হয়। সে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে বলে সার্টিফিকেটে উল্লেখ করা হয়েছে। দেখা গেছে, ডেট সার্টিফিকেটে বয়স উল্লেখ করা ৩০ বছর। আবার চিকিৎসা ব্যবস্থা পত্রে তার বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ২৮ বছর। ডেট সার্টিফিকেট ও চিকিৎসা ব্যবস্থা পত্রে
উল্লেখ্য, রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) নগরীর খালিশপুর ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় মোঃ রিপন সরদার নামে এক পলিটেকনিক ছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ তোলেন স্বজনরা। শনিবার রাতের ওই ঘটনায় কর্তব্যরত চিকিৎসককে মারধর করেন। এ ঘটনায় সোনাডাঙ্গা পুলিশ কায়েস ও কৌশিককে আটক করেন।