রানা রিসোর্টকে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পদ ঘোষণা করা হোক, দাবি মুক্তিযোদ্ধাদের

0
459

সুমন আশিক:
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সার্বিক কল্যাণে গড়ে তোলেন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট। তার সুযোগ্য কন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ট্রাস্ট্রের কার্যক্রমের গতি বাড়াতে সর্বদা নিরলস কাজ করে চলেছেন। আর সেই ট্রাস্টের সম্পদ নিয়ে কোন প্রকার নয়ছয় গ্রহণযোগ্য নয়। এজন্য ট্রাস্টের অর্থ লোপাটকারী প্রতিষ্ঠানকে বাজেয়াপ্ত করে তার সকল সম্পদ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করা হোক। দৈনিক খুলনা টাইমস এর সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এমনই দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা।
প্রসঙ্গত, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ৩ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে ওয়েষ্টান গ্রুপের কর্ণধার এ এস এম আলাউদ্দিন ভূঁইয়া খুলনায় রানা রিসোর্ট গড়েছেন। করছেন একটি পাঁচ তারকা হোটেলও। এবিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে একবাক্যে মুুক্তিযোদ্ধারা বলেন, রানা রিসোর্টসহ ওয়েষ্টান গ্রুপের সকল সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করা হোক। ২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বর এনিয়ে ‘‘মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ৩ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে ওয়েষ্টান গ্রুপের বিনিয়োগ এখন খুলনায়’’ শীর্ষক শিরোনামে দৈনিক খুলনা টাইমস পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
খুলনা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড এর কমান্ডার অধ্যাপক আলমগীর কবির খুলনাটাইমসকে বলেন, বঙ্গবন্ধু নিজের হাতে গড়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট। মুক্তিযুদ্ধে আহত ও নিহত মুক্তিযোদ্ধা এবং তার পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে। কেউ বা কোন মহল ট্রাষ্টের সম্পদ লোপাট করে থাকে কিম্বা লোপাটের অর্থে সম্পদ গড়ে তোলে, তবে সেই সম্পাদ বাজেয়াপ্ত করে ট্রাস্টের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি লোপাটকারী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার এর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তোলেন তিনি।
খুলনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড এর কমান্ডার সরদার মাহাবুবার রহমান খুলনাটাইমসকে বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে এটা সত্য হয়ে থাকলে অব্যশই লোপাটকারী প্রতিষ্ঠানের খুলনায় গড়ে তোলা রানা রিসোর্টসহ অন্যান্য সম্পদ বাজেয়াপ্তপূর্বক মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্টের সম্পদ ঘোষণা করা উচিত। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বিষয়টি সম্পর্কে আরও খোঁজখবর নিয়ে প্রতিবাদ প্রদানসহ আরও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কারণ বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া প্রতিষ্টান মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্ট এর সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার অধিকার কারও নেই। যে মহল এমন ঘৃণিত কর্মকান্ড ঘটিয়েছে, তাদের এর বিরুদ্ধে সকলমহলকে স্বোচ্ছার হওয়ার আহবান জানান তিনি।
মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার ও বাগেরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ কামরুজ্জামান টুকু খুলনাটাইমসকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্ট এর সম্পদ যদি কেউ ক্ষতিগ্রস্থ বা নষ্ট করে থাকে, তবে তার নিশ্চিত বিচার হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে কোনরূপ অবহেলা নয়। দোষী ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি তোলেন এই যুদ্ধকালীন কমান্ডার।
এর আগে খুলনাটাইমস পত্রিকার প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ ইফতেখারুল ইসলাম খান বলেন, ডেভেলপার কোম্পানী ওয়েষ্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার্স এর সাথে ট্রাস্টের চুক্তি হয়। তবে তারা চুক্তি অনুযায়ী ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করেনি। নানা উদ্যোগ নিলেও তা কার্যকর হয়নি। সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি প্রত্তুত্তরে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কীত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক নৌ পরিবহণ মন্ত্রী শাহজাহান খান এর কাছে জিজ্ঞেস করুন। তিনি বলতে পারবেন। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নিজেই এর দায়িত্ব নিয়েছেন। আপনি তার কাছ থেকে জেনে নেন।
ট্রাষ্টের কর্মকান্ডে সংসদীয় কমিটি হস্তক্ষেপ করতে পারে কি-না? এমন প্রশ্নে তিনি কোন মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
মোঃ ইফতেখারুল ইসলাম খান জানান, ১৯৯৬ সালে ডেভেলপার কোম্পানী ওয়েষ্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার্সেও সাথে গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজের চুক্তি করে তৎকালীন ট্রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার আসাদুজ্জান। স্বাভাবিক ভাড়া ১৫০ প্রতি বর্গস্কায়ার ফিট। তবে চুক্তি কারণে ভাড়া পাচ্ছি প্রতি বর্গস্কায়ার ফিট ৬ টাকা উপরতলাসমূহের জন্য এবং ১০ টাকা নীচতলা সমূহের জন্য। তাও সবাই দেয় না। একটা বড় অংশই দখল করে রেখেছে প্রভাবশালী মহল। তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ডেভেলপার কোম্পানীর কাছ হতে অন্তত: ২২৫০ কোটি টাকা পেতো ট্রাষ্ট। তবে তা হয়নি। এত বিপুল অংকের অর্থ হারানোর জন্য ডেভেলপার কোম্পানীই দায়ী। তিনি যোগদানের পর প্রজেক্টটির বার্ষিক আয় ৮ কোটি থেকে ৫০ কোটিতে উন্নীত করেছেন বলে জানান।
মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কীত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক নৌ পরিবহণ মন্ত্রী শাহজাহান খান খুলনাটাইমসকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নামে কতিপয় ব্যাক্তি সেখানে বেজমেন্ট দখল করে রেখেছে। এরপর আমি ডেভেলপার কোম্পানীকে খুজে বের করি। তখন ওয়েষ্টার্ন গ্রুপের কর্ণধার দাবি করেন, একটি মহল ভয়ভীতি দিয়ে তাদেরকে সরিয়ে দিয়েছে। আমি তাদের অভয় দিয়ে ভবনটি দ্রুত নির্মাণ সম্পন্নের পদক্ষেপ নিতে বলেছি।
তবে ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস অরগানাইজেশনের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যোখানে দূনীতি বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করেছেন। সেখানে এই বিএনপি ও জামায়াত কানেকশন নেতা কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পদ হরিলুট করে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ব্যবসা করে এখন খুলনায় রিসোর্ট ব্যবসা শুরু করেছে কিভাবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ আমলে নেবেন বলে আমি মনে করি।
মুক্তিযোদ্ধা মুনছুর খান জানান, প্রধানমন্ত্রী সর্বদা মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে কাজ করেছেন। তিনি থাকতে এক-এগারোর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিএনপি নেতা এ এস এম আলাউদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বে তিনি কিভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পদ হরিলুট করে এবং দূর্নীতি করে দাপটের সাথে সমাজে চলাফেরা করছে।
জানা গেছে, ২০০১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ার্সের সঙ্গে কল্যাণ ট্রাস্টের চুক্তি হয়। গুলিস্তান সিনেমা হলের ওই প্লটে জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৬১৪০ একর। চুক্তির দিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ২০ তলা ভবন নির্মাণ করে তা কল্যাণ ট্রাস্টকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। পরে দুই ধাপে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। সে অনুয়ায়ী ২০০৭ সালের মধ্যে ভবন নির্মাণ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এক-এগারোর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মালিক এ এস এম আলাউদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠতে থাকায়, তিনি পালিয়ে যান। এর পর আর ভবনের নির্মাণ কাজ এগোয়নি।


একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here