মালদ্বীপের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্রেপ্তার

0
160

খুলনাটাইমস আর্ন্তজাতিক: মালদ্বীপের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ আদীবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভারত তাকে সে দেশে প্রবেশ করতে না দেওয়ার পর গত শনিবার মালদ্বীপ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে রাজধানী মালেতে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এক টুইটার পোস্টে মালদ্বীপ পুলিশ বলেছে, “আমরা নিশ্চিত করছি যে আহমেদ আদীব আবদুল গফুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আমাদের হেফাজতে তাকে মালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”
অবৈধভাবে একটি টাগবোটে করে ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় বন্দরশহর ঠুথুকুডিতে প্রবেশ করেছিলেন আদীব। পরে বৃহস্পতিবার ভোররাতে তাকে আটক করে দেশে ফেরত পাঠায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ; বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত দুটি সূত্র রয়টার্সকে এসব তথ্য জানিয়েছে। ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় সূত্র দুটি নিজেদের নাম প্রকাশ করেননি।
ঠুথুকুডি বন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, গত শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আদীবকে একটি জলযানে করে ভারতীয় কোস্টগার্ডের জাহাজের পাহারায় মালদ্বীপে ফেরত পাঠানো হয়।
সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী যে টাগবোটটি আদীবকে বহন করে ঠুথুকুডিতে নিয়ে এসেছিল তাদের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্টকে আটক করে বলে ভারতীয় বন্দর ও পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আদীব চলতি মাসের প্রথমদিকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।
মালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সোমবারে আদীব মালদ্বীপে পৌঁছবেন বলে আশা করছেন তারা।
এ বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মালদ্বীপের পুলিশ কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
৩৭ বছর বয়সী আদীবকে ২০১৬ সালে মালদ্বীপের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামীনকে হত্যার ষড়যন্ত্র করার কথিত অভিযোগে ১৫ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছিল। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদের দায়েও দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন আদীব। তার সর্বমোট ৩৩ বছর কারাদ-ের সাজা হয়েছিল।
কিন্তু অযৌক্তিক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণ দেখিয়ে চলতি বছর মালদ্বীপের একটি আদালত সেসব দ-াজ্ঞা বাতিল করে ওই অভিযোগগুলোর বিচার নতুন করে করার নির্দেশ দেয়।
ইয়ামীনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার মামলার প্রধান সাক্ষী আদীবকে একসময় মালদ্বীপের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে দেখা হতো। অর্থপাচার মামলায় ইয়ামীন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
আদীবের প্রতিনিধিত্ব করা লন্ডনভিত্তিক আইনি গোষ্ঠী গুয়ের্নিকা থার্টিসেভেন বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রাণের ভয়ে মালদ্বীপ থেকে পালিয়ে আসা আদীব ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন এবং ‘ভারতের সুরক্ষা চেয়েছিলেন’।
এ ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য শনিবার গুয়ের্নিকা থার্টিসেভেনকে অনুরোধ করা হলেও বন্ধের দিন হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তারা সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
নয়াদিল্লি থেকে সরকারি একটি সূত্র বলেছে, “বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ও নির্ধারিত প্রবেশ পথ দিয়ে প্রবেশ না করায় আদীবকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।”