ভৈরব ও রূপসা তীরের প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ না করেই উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার দাবিতে মানববন্ধন

0
88

খবর বিজ্ঞপ্তি:
খুলনার ভৈরব নদ ও রূপসা নদীর তীরে অবস্থিত শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের উচ্ছেদ না করেই উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ব্যবসায়িরা। সোমবার বেলা ১১টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত খুলনা সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এক ঘন্টার মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজিবী ও ব্যবসায়ি নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ কওে বক্তৃতা করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে। সরকারের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। কারণ, বর্তমান সরকার এ অঞ্চলের উন্নয়নে খুবই আন্তরিক। সরকার অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবসাবান্ধব সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু অতীব কষ্টের বিষয় উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করতে গিয়ে সম্প্রতি ভৈরব নদ ও রূপসা নদীর তীরের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের নোটিশ প্রদান করেছে যা ব্যবসায়ীদের জন্য অশনী সংকেত এবং সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে এই এলাকার ১০ হাজারেরও বেশী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। সেই সাথে বেকার হয়ে পড়বে লক্ষাধিক মানুষ।
বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি ভৈরব নদ ও রূপসা নদীর তীরে অবস্থিত শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের জন্য নোটিশ পাঠায়। যার নথি নং-১৮. ৭১৪. ০৪৫. ০১.০০.০১০. ২০১০/৩০০। এই এলাকাটি ব্যবসাবান্ধব হিসেবে গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পরিচিত। দীর্ঘ ৫০ বছরের অধিকাল ধরে এই এলাকায় গড়ে উঠেছে এতদা অঞ্চলের বৃহৎ ব্যবসায়িক অঞ্চল। এই এলাকায় অনেকেই পৈত্রিক সম্পত্তি, সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের লীজ ও একসনা বন্দোবস্তো নিয়ে ব্যবসায়ীরা গড়ে তুলেছে মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠন, ছোট ও বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পাথর, কয়লার ডিপো, ইট, বালু, কাঠের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান। বৃহৎ ব্যবসায়ীক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ১০ হাজারের উপরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের কৃতী সন্তান অনেক মুক্তিযোদ্ধা এখানে ব্যবসা-বানিজ্য করে পরিবার পরিজনের ভরণ-পোষন করছেন। এসব ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা লগ্নি রয়েছে। বাকী পাওনা রয়েছে কোটি কোটি টাকা। ব্যাংক ঋণ নিয়ে তারা ব্যবসা করছেন। কিন্তু উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নের নামে এসব ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হলে তারা সর্ব শান্ত হয়ে পড়বে। লগ্নিকৃত অর্থ আদায় ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। পাশাপাশি অঞ্চলের বৃহৎ ব্যবসায়ীক অঞ্চলটি হারিয়ে যাবে। এছাড়া এই অঞ্চলটি শ্রমিক অধ্যাষূত এলাকা হিসেবে পরিচিত। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ হলে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে।
আমরা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিপক্ষে নই। আমরা চাই ব্যবসায়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রেখে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করা হোক। ব্যবসায়ি বান্ধব বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী, জাতির জনকের কন্যা দেশরতœ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষন করে বলতে চাই ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাধারণ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের রুটি, রুজির বিষয়টি বিবেচনা করে ভৈরব ও রূপসা নদীর তীরের শিল্প ও বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ না করেই উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার নির্দেশ দেবেন। এতক্ষণ ধৈর্য্য ধরে আমাদের বক্তব্য শোনার জন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শেষ করছি।
ভৈরব ও রূপসা নদীর তীরের ব্যবসায়িদের পক্ষ থেকে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ শহীদুল ইসলাম। বক্তৃতা করেন, ২২ নং ওয়ার্ডেও সাবেক কাউন্সিলর মোঃ মাহবুব কায়সার, ব্যবসায়ি বদরুল আলম খান, ইয়াকুব আলী খান পলাশ, লোকমান হাকিম, আশরাফ আলী, রফিকুল ইসলাম, খুরশীদ আলম কাগজী, সেলিম আহমেদ, হাবিবুর রহমান খান, নুরে আলম, এইচ এম সেলিম, দুলাল মল্লিক, আসিফ খান, আশিক কাইয়ুম, বুলবুল আহমেদ, তৌহিদ ইসলাম, শাহআলম, সেলিম কাজী, কাজল ইসলাম, ইফসুফ আলী, হালিম হাওলাদার, মোঃ আকরাম, তুফান, আঃ খালেক,