বেগম জিয়াকে জেলে মেরে ফেলবে এ রাজনীতি শেখ হাসিনা করেননা – ওবায়দুল কাদের

0
67

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপির মহা-সচিব মীর্জা ফখরুলের সমালোচনা করে বলেছেন, বেগম জিয়াকে জেলে মধ্যে মেরে ফেলবে এ রাজনীতি বঙ্গবন্ধু করেন নাই। তার কন্যা শেখ হাসিনাও করেননা। তাকে কষ্ট দিয়ে মারার ইচ্ছা শেখ হাসিনার নেই। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করিনা। খালেদা জিয়াকে জেলে নিয়েছে আদালত। তার বিরুদ্ধে তত্ত্ববধায়ক সরকার দুর্নীতির মামলা দিয়েছে। আদালত এ মামলার বিচার করছে। তার দুর্নীতির মামলার মুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। সরকার এটি বিবেচনা করতে পারেনা। বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলায় নেই । রাজনৈতিক মামলা থাকলে, সরকার তাকে প্যারলে মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করতে পারতো।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেতু মন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্পর্কে বলেন, তাকে প্যারলে মুক্তি দেয়ার জন্য পরিবার থেকে বিভিন্নভাবে আবেদন এসেছে। তারা টিভির পর্দায় আবেদন করেন। আমি বৃহস্পতিবার সকালেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে খবর নিয়েছি। লিখিত কোন আবেদন আসেনি। এখন লিখিত আবেদন আসলেও এ আবেদন কারণ সহ সুক্তিসংগত হতে হবে। যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও প্যারল বিবেচনা করতে পারেনা। সরকারও বিবেচনা করতে পারেনা। বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে দলের লোকেরা বলে একথা, চিকিৎসকরা বলে আরেকটা। চিকিৎসকরা বলে তার স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে আছে। আর দলের লোকরা তাকে অসুস্থ্য থেকে অসুস্থ্য বানিয়েছে। তাকে নিয়ে তারা যতটানা চিকিৎসা নিয়ে ভাবছে, তারচেয়ে বেশি তারা রাজনীতি করছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ২১ বছর জয়বাংলা, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধু নিষিদ্ধ ছিলো। দেশ পাকিস্তানী ভাবধারায় ফিরে গিয়েছিলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরিয়ে এনেছেন। তিনি সারাদেশে অভূততপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। এ উন্নয়নে সারা বিশ্বে তিনি তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ এখন এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ স্থানে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের মূলধারায় বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। আর কোন অন্ধকারের অপশক্তিকে ক্ষমতার মঞ্চে আসতে দেয়া হবেনা।
তিনি আরো বলেন, সততা ও মেধার প্রতিক হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর পরিবার। শিক্ষা দীক্ষায় এ পরিবার এগিয়ে। কিভাবে সৎ জীবন যাপন করতে হয় তার উদহরন বঙ্গবন্ধুর পরিবার। এ পরিবারের সদস্যদের টাকা পয়সার প্রতি কোন লোভ নেই। শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় রাস্তা, ব্রিজ, বিদ্যুৎ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সব কিছু করেছেন। অন্ধকার টুঙ্গিপাড়াকে আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন। টুঙ্গিপাড়া এখন নবআলোকে উদ্ভাসিত। টুঙ্গিপাড়ার প্রতিটি ঘরে একজনকে চাকরি দেয়া হবে। টুঙ্গিপাড়াকে আরো অধুনিকভাবে সাজানো হবে। মানুষের নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। এ জন্য আপনাদের ধৈয্য ধরতে হবে। আপনারা প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া আশির্বাদ করবেন।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রথমপর্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিম, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এমপি,সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম ও এস.এম কামাল হোসেন।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের প্রথম পর্বের আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনিসুর রহমান, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম.ডি বাবুল রানা, গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ওসামা আমিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধূরী এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল বশার খায়ের, উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায় শেখ আহম্মেদ হোসেন মীর্জা, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশিদ তারেক সহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।
এ সময় খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড.সুজিত অধিকারী, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এম. বদরুল আলম বদর, আওয়ামী লীগ নেতা শুকুর আহম্মেদ, শেখ তোজাম্মেল হক টুটুল, এমদাদুল হক বিশ্বাস, জেলা যুবলীগের সভাপতি জিএম শিহাবউদ্দিন আজম সহ কেন্দ্রীয়, গোপালগঞ্জ জেলা , টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে শেখ আবুল বশার খায়ের ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোঃ বাবুল শেখের নাম ঘোষনা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এরপর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের টুঙ্গিপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ফোরকান বিশ্বাসের নাম ঘোষনা করেন।
এরআগে গত ২০১৫ সালের নভেম্বরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নেতা কর্মী ও সমর্থকরা বর্নিল সাজে সেজে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে সম্মেলন স্থলে এসে হাজির হন। সম্মেলন শুরুর আগেই সম্মেলন স্থলে ২০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। টুঙ্গিপাড়া উপজেলাকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। নির্মাণ করা হয় তোরণ। উৎসব মুখর পরিবেশে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।



একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here