বিমান দুর্ঘটনায় নিহত আলিফের জানাজায় মানুষেল ঢল : চোঁখের জলে শেষ বিদায়

0
167

এম জে ফরাজী, খুলনাটাইমস:
মা-বাবা, ভাই ও আত্মীয়-স্বজনদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে নেপালে বিমান দুর্ঘনায় নিহত খুলনার আলিফুজ্জামান আলিফের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুম্মা রূপসা উপজেলার বেলফুলিয়া ইসলামীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তার জানাজা নামাজে শত শত মানুষের ঢল নামে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ, জেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম মনা, রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলিয়াছুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট সুজিৎ অধিকারী, কামরুজ্জামান জামাল, আক্তারুজ্জামান বাবু, অসিত বরণ বিশ্বাস, শেখ আবু হানিফ, ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান বাবুল, শফিকুর রহমান পলাশ, ইউপি চেয়ারম্যান সাধন অধিকারী, সাবেক চেয়ারম্যান খান জুলফিকার আলী জুলু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আরাফাত হোসেন পল্টু, বর্তমান সভাপতি পারভেজ হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন প্রমুখ। পরে তার মরদেহ স্থানীয় রাজাপুর মাদ্রাসা কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে শুক্রবার ভোর ৪টা ২০মিনিটে আলিফুজ্জামান আলিফের (৩২) মরদেহ নিজ গ্রাম রূপসা উপজেলার আইচগাতী গ্রামের বারো পূণ্যের মোড়ের বাড়িতে পৌঁছায়। মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স তার নিজ বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে নারী-পুরুষসহ শত শত মানুষ আলিফের মরদেহ একনজর দেখার জন্য ছুটে আসে। শুক্রবার ভোর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে আলিফের মা-বাবাসহ আত্মীয়-স্বজনের কান্নায় তখন ভারি ওঠে পুরো এলাকা। কফিন জাপটে ধরে প্রিয় সন্তানের জন্য ঢুকরে ঢুকরে কাঁদতে থাকেন আলিফের মা মনিকা পারভীন। তিনি বুক চাপড়াতে চাপড়াতে আর্তনাদ করে বলতে থাকেন, বাবা নেপালে যাওয়ার আগে তুই আমাকে বলেছিলি ‘মা কাঠমান্ডু পৌঁছেই তোমাকে ফোন দেব। তুই তো আর আমারে মোবাইলে ফোন করলি না? বলেছিলি পাঁচদিন পরই ফিরে আসব। তোর তো এভাবে ফিরে আসার কথা ছিল না! তুইকি আর আমাকে মা বলে ডাকবি না বাবা? একবার বল না মা ‘তোমার আলিফ তোমার কোলে ফিরে এসেছে।’ আলিফের মায়ের আর্তনাদে এ সময় শোকে ভারি ওঠে গোটা পরিবেশ।
গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে মোহাম্মদ আলিফুজ্জামান, নজরুল ইসলাম ও পিয়াস রায়ের মরদেহবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারল্যাইন্সের বিজি ০৭২ নামে একটি ফ্লাইট শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে আলিফুজ্জামানের বড় ভাই আশিকুর রহমান হামিম ও তার স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী শাহজাহান কামাল। বাদ মাগরিব রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আলিফের জানাজা নামাজ শেষে খুলনার উদ্দেশে রওনা দেয় মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স। গতকাল শুক্রবার ভোর ৪টা ২০মিনিটে মরদেহ পৌঁছায় বাড়িতে।
উলে­খ্য, আলিফুজ্জামান আলিফ খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন। খুলনার সরকারি বিএল কলেজ থেকে এবার রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স পরীক্ষা দিচ্ছিলেন তিনি। তিন ভাইয়ের মধ্যে আলিফুজ্জামান ছিলেন দ্বিতীয়। তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা মোল­া আসাদুজ্জামান। তিনি নেপালে বাণিজ্য মেলা দেখার জন্য গিয়েছিলেন। গত ১২ মার্চ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিএস২১১ ফ্লাইট বিধ্বস্ত হলে ২৬ বাংলাদেশি, ২২ নেপালি ও ১ চীনা নাগরিক নিহত হন।