প্রেসক্রিপশনের ওষুধ বদলে দিচ্ছে ফার্মেসী ; ভুল ওষুধে বাড়ছে মৃত্যু ঝুঁকি

0
8617

আছাদ ছেযাদ জাহিম:
তরিক শিকদার, বয়স ৩৫। মোল্লাহাট এলাকার বাসিন্দা। গত ২০ মে নগরীর একটি প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে ডাক্তারকে দেখান। তার জন্ডিস ধরা পড়েছে। কয়েকটি ওষুধ প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করেন চিকিৎসক। এগুলো নিয়মিত খাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। ওই প্রেসক্রিপশনটি নিয়ে নগরীর হেরাজ মার্কেটে মেসার্স শামীম ফার্মেসীতে কিনতে আসেন ওষুধগুলো। কিন্তু চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ না দিয়ে অন্য ওষুধ দিয়ে দিয়েছেন ওই দোকানী। দুই দিন পর ওই রোগী চিকিৎসকের কাছে গেলে তাকে ভুল ওষুধ দিয়েছে বলে চিকিৎসক উল্লেখ করলে সে আঁতকে ওঠে। নেই ওই ওষুধের কোনো ডিআর নম্বর। নেই মেয়াদ উত্তীর্ণ বা উৎপাদনের তারিখ। সাদা কৌটা থেকে ওষুধ বের করে কাগজে
মুড়ে দিয়ে হাতে ধরিয়ে দিলেন।
নগরীর বিভিন্ন ফার্মেসী রোগীর প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ বদলে ভুল ওষুধ ধরিয়ে দিচ্ছেন।
রোগী তরিক শিকদার এ প্রতিবেদককে বলেন, এর কয়েক দিন আগে নগরীর একটি প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে ডাক্তার দেখিয়ে যান। টাকা-পয়সা কম থাকার কারণে শামীম ফার্মেসী থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে যা ওষুধ হয় তা কিনে নিয়ে বাড়ি চলে আসেন। গত ২০ মে পুনরায় ডাক্তারের কাছে আসেন। ডাক্তার আমার কেনা ওষুধ দেখতে চাইলে দেখেন তার প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ পরিবর্তন করে ভুল ওষুধ ধরিয়ে দিয়েছে ওই ফার্মেসীটি। দেখা যায়, রোগীর প্রেসক্রিপশনে ‘হাইওটিক’ নামক ওষুধটি লেখা আছে। কিন্তু ওই ফার্মেসী ‘কওজকখঅঘউ” ঈঅখঈওটগ এই নামক ওষুধ বড় কৌটা থেকে বের করে দেন। প্রতিটি ট্যাবলেটের দাম ১২-১৫ টাকা করে বিক্রি করেন। গায়ের কোনো ডিআর নম্বর নেই। নেই ওষুধের মূল্য।
প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ দোকানে থাকা সত্ত্বে¡ও অন্য ওষুধ দিলেন কেনো এমন প্রশ্ন করা হলে দোকানী প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে ভুল স্বীকার করে ওই ওষুধটি ধরিয়ে দেন। এমন ভুল হবে না বলে তিনি এ যাত্রায় এড়িয়ে যান।
জানা গেছে, কিছু অসাধু ওষুধ দোকানী মানহীন, নিম্ন ও ভেজাল ওষুধগুলো রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বিক্রি করছেন। বেশির ভাগ এসব ক্ষেত্রে প্রতারিত হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা। একটি সূত্র জানায়, ওই ক্যালসিয়াম নামক ওষুধটি গোপালগঞ্জের কোনো একটি এলাকায় নকলভাবে তৈরি হয়ে খুলনাসহ বিভিন্ন ওষুধের দোকানে ঢুকে পড়ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা বাড়ালে ওই চক্রটি ধরা পড়বে বলে তারা আশাবাদী। প্রতারিত রোগীরা বাড়তি ওষুধ সেবন করেও পাচ্ছে না প্রতিকার। এ কারণে রোগীর প্রাণ নিয়ে সঙ্কটের সময়ও চিকিৎসকদের বাড়তি মনোযোগ দিতে হচ্ছে ওষুধের দোকানে। অথচ কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রির জন্য মানহীন ওষুধ বিক্রি করইে চলেছেন ফার্মেসী মালিকরা। মূলত একটি ওষুধ চক্র খুলনার হেরাজ মার্কেট থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে মানহীন ওষুধের বাজার। এর আগে র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নগরীর হেরাজ মার্কেটে অভিযান চালিয়ে মানহীন ওষুধ, ভেজাল ও নকল ওষুধ জব্দ করেন। অনেক নামী দামি কোম্পানির ওষুধও বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরা পড়ার খবরও আছে এই মার্কেটে।
খুলনা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ এ প্রতিবেদককে বলেন, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধটি ফার্মেসী দোকানীকে দিতে হবে। কোনোভাবেই ওই ফার্মেসী ওষুধ বদলানোর এখতিয়ার তার নেই। যদি কেউ করে থাকে তাহলে এটা দন্ডনীয় ও গুরুতর অপরাধ করেছেন।