প্রবাসীদের অকুণ্ঠ ভালবাসায় সিক্ত খুলনা পাসর্পোট অফিসের পরিচালক আবু সাইদ

0
150

ফকির শহিদুল ইসলাম :

মালয়েশিয়া প্রবাসীদের সেবা দিয়ে অকুণ্ঠ ভালবাসায় সিক্ত হয়ে দেশে ফিরলেন খুলনা আঞ্চলিক পাসর্পোট অফিসের পরিচালক আবু সাইদ। তিনি গত ১৬ আগোষ্ট মালয়শিয়ার আলাম দামাই বাংলাদেশী হাই কমশিনে সফরে যান। শিক্ষার্থী, র্কমরত শ্রমিক, ও স্থানীয়, প্রবাসী বাংলাদেশীরা আবু সাইদের কাছ থেকে পাসর্পোট বিষয়ে বিভিন্ন রকমের সেবা পেয়ে উপকৃত হওয়ায় প্রবাসী এক ব্যক্তির ফেসবুক ওয়ালে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দেন ।স্বদেশের মানুষের এই হীন দশাগ্রস্থ বিভিন্ন সেবা প্রার্থীদের নানা ভাবে সেবা দিতে থাকেন। এভাবে এক মাস যাবত তিনি মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের সেবা প্রদান করেন। সম্প্রতি মালয়েশিয়া প্রবাসী এক ব্যক্তি সেবা পাওয়ায় আবু সাইদ এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে একটি কৃতজ্ঞতা পত্র প্রেরণ করেন।

এ পত্রে প্রবাসী ওই ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন, আমরা যারা মালয়েশিয়া প্রবাসি আছি তারা আপনার কাছে চির কৃতজ্ঞ। শুধু আপনার আসা এই কয়েক দিনে। আমার কায়েক বার হাই কমিশন যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এ রকম যদি অফিস কর্মকর্তারা সকল প্রবাসীদের সাথে সদাচারণ করে। স্যার প্রবাসীরা কত কষ্ট করে অর্থ জোগাড় করে। সেটা যদি দেশের মানুষ দেখতো তাহলে তাদের সন্তান, স্বামী, ভাই কাওকে বিদেশ আসতে দিত না। বিভিন্ন সময় নানা কাজে হাই কমিশন অফিসের সরনাপন্ন হতে হয়। তবে দু:খের বিষয় এই যে, সেখান থেকেও মাঝে মাঝে অনেক প্রবাসীদের কে বিভিন্ন ভাবে হয়রাণির স্বীকার হতে হয়। যা মোটেও তাদের কাছ থেকে কাম্য নয়। এমন কি অফিস কর্মকর্তারা তাদের কে বুঝানোর মত ক্ষমতা টুকু রাখে না। আপনার আসাতে ও অফিসের কাজ কর্ম দেখে সত্যি গর্ব করার মত ছিল। এমন যদি আমরা প্রবাসীরা সেবা পেতাম তা হলে দিনের পর দিন হয়রাণি আর দালালদের কাছে যেতাম না। সত্যি স্যার আপনার জন্য গর্ব করা যায়। আপনার এই ক্ষনিকের আসার জন্য আমরা ধন্য। প্রবাসী মোঃ মেহেদি জানান, ইতোপূর্বে পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য আবেদন কারীরা পদে পদে হয়রানির শিকার হতেন। দালালের হাতে পড়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মূখীন হতেন। অফিসের কিছু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীর ব্যবহার এবং বাড়তি আয়ের জন্য সেবা প্রার্থীদের নানাভাবে হয়রাণি হতেন। সেই তুখলকি কান্ড তিনি বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে এ প্রতিষ্ঠান এখন সেবালয়ে পরিনত হয়েছে।

এছাড়া খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক আবু সাইদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ অঙ্গনের সকল অনিয়ম দূরিভূত হয়েছে বরে পাসপোর্ট প্রার্থীরা জানিয়েছেন । ইতোপূর্বে পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য আবেদন কারীরা পদে পদে হয়রানির শিকার হতেন। দালালদের খপপরে পড়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মূখীন হতেন। অফিসের কিছু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারী ও উপরি আয়ের জন্য সেবা প্রার্থীদের নানাভাবে হয়রানি করতেন। সেই তুখলকি কান্ড তিনি বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে এ প্রতিষ্ঠান এখন সেবালয়ে পরিনত হয়েছে। খুলনা পাসপোর্ট অফিসে সেবার মান বেড়েছে। সেবা প্রার্থীদের কাছে খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে তারা এখন সুষ্ঠুভাবে সেবা পাচ্ছেন। নুতন পাসপোর্ট প্রাপ্তি বা নবায়ন কোন কাজেই একর আর তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন না। আবু সাইদের এ অফিসে যোগদানের পর থেকে দাপ্তরিক কাজে কর্মচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি অনিয়ম দূর্নীতি ও হ্রাস পেয়েছে।
সেবা প্রার্থীদের কাছে খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে, তারা এখন সুষ্ঠুভাবে সেবা পাচ্ছেন। নুতন পাসপোর্ট প্রাপ্তি বা নবায়ন কোনো কাজেই এখর আর তারা হয়রাণির শিকার হচ্ছেন না। আবু সাইদের এ অফিসে যোগদানের পর থেকে দাপ্তরিক কাজে কর্মচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি অনিয়ম দূর্নীতিও হ্রাস পেয়েছে।
প্রবাসী মোঃ ফিরোজ জানান, আমি খুলনা থেকে বছর খানিক আগে মালোয়শিয়ায় এসেছি। এর আগে ১০ বছর থেকে গেছি। খুলনা পাসপোর্ট অফিসে গিয়েছিলাম আমার স্ত্রীর পাসপোর্ট করতে। সেখানে এখন আর আগের মতো নেই। আগে হাত থেকে দালালরা কাগজপত্র নিয়ে যেত। প্রতিটা পাসপোর্টে ১৪ থেকে ১৬শ’ টাকা বেশি নিত। এখন সেখানে গেলে মনে হয়, যেন নতুন কোনো সেবালয়ে এসেছি। সেবার মান বেড়েছে। আমি পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বিভিন্ন লেখা পড়ছিলাম। এমন সময় মধ্যে বয়স্ক একলোক এসে বললেন, আপানার কি সমস্যা। কাগজ দেখে লাইনে দাড়াতে বললেন। তার ৩৫ মিনিটের মধ্যে সব কাজ শেষ হয়েগেল। ফেরার সময় সেই লোকটাকে আবার দেখলাম। পাশ থেকে এক আনসার বললেন, সরে দাড়ান স্যার যাবেন। আমিতো অবাক। ইনি পরিচালক!
জানাগেছে, মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশনের উদাসীনতার কারনে বহু প্রবাসী বাংলাদশেী হয়রাণির শিকার হচ্ছেন। পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়াসহ নান কারনে তারা বাংলাদেশ হাই কমিমিনের দ্বারস্থ হন। কিন্তু কাঙ্খিত সেবা না পেযে হতাশ হযে পেড়েন। পাসপোর্ট কর্মর্কতা আবু সাইদ প্রবাসী বাংলাদেশীদের সে করুন চিত্র প্রত্যক্ষ করেন।
এব্যাপারে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাই কমিশন থেকে পাসপোর্ট নবায়নের বিষয়টি খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক আবু সাইদ বলেন, মালয়েশিয়ার আমদাহ নামক স্থানে প্রবাসীদের সহায়তার লক্ষে বাংলাদেশ পাসপোর্ট অফিসের একটি মিশন খোলা হয়েছে। সে খানে আমি বাংলাদেশীদের জন্য কাজ করেছি কিছু দিন। প্রবাসীদের কষ্টের কথা শুনে তারে জন্য আমার সাধ্য মত কাজ করেছি। তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমিও আনন্দিত হয়েছি। আমি ১৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে নিজ কর্মস্থলে যোগদার করি।
এছাড়া মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশের হাই কমিশন রয়েছে। এই হাই কমিশন থেকে মালয়েশিয়ার সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দেশটির সাথে বাংলাদেশের আন্ত:দেশীয় সম্পর্ক উন্নয়নে দূতাবাস কাজ করে। কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশী হাই কমিশন সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশীদেরকে বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে। মালয়েশিয়াতে বসবাসকারী বাংলাদেশী নাগরিক, শ্রমিক বা অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রীরা অন্য দেশে যাওয়ার জন্য কিংবা পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে দূতাবাস থেকে নতুন করে পাসপোর্ট করে থাকেন। পাসপোর্টের নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পাসপোর্ট নবায়ন করতে হয়। বাংলাদেশ হাই কমিশন আবেদনের প্রেক্ষিতে পাসপোর্ট নবায়ন করে থাকে। এছাড়া পাসপোর্ট নবায়ন করতে হলে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশী হাই কমিশনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সাথে পাসপোর্ট নীতিমালার চাহিদা অনুযায়ী কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। জরুরি এবং সাধারণ আবেদনের জন্য নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করতে হবে। কাগজপত্রসহ ফি জমাদানের স্লিপ কনস্যুলার কাউন্টারে দাখিল করতে হবে। হাই কমিশনের কর্মকর্তা কাগজপত্র যাচাই বাছাই এবং পাসপোর্ট গ্রহণকারীর তথ্য ভেরিফাই করে নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট নবায়ন করবেন।