নগর যুবলীগের কমিটি গঠন নিয়ে তোড়জোড়, আলোচনায় পলাশ-শেখ সুজন

0
5332

এম জে ফরাজী : দীর্ঘদিন পর খুলনা মহানগর যুবলীগের কমিটি গঠন নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এর আগে একাধিকবার কমিটি গঠন নিয়ে গুঞ্জন উঠলেও শেষ পর্যন্ত আর নতুন কমিটি গঠন হয়নি। ফলে ১১ বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে নগর যুবলীগ। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন খুলনার যুবলীগের তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মী। তবে এবার কমিটি গঠন নিয়ে বেশ তোড়জোড় শুরু হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। নেতাকর্মীরা মনে করছেন নতুন কমিটি গঠন হলে দল আরও উজ্জীবীত হবে। ইতোমধ্যে নেতাকর্মীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও প্রচারণা শুরু করেছেন।
নতুন কমিটিতে এবারও সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান আহ্বায়ক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাড. সরদার আনিসুর রহমান পপলু। তবে যুবলীগের পরিবর্তে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে দেখা যেতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়া সভাপতি পদে নতুন করে খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও নগর যুবলীগের সদস্য সফিকুর রহমান পলাশের নাম জোড়ালোভাবে শোনা যাচ্ছে। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজন।
সূত্র জানায়, এ্যাড. আনিসুর রহমান পপলু ২০০৩ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মহানগর যুবলীগের সভাপতি ও ২০০৮ সাল থেকে অদ্যবধি নগর যুবলীগের আহ্বায়কের পদে রয়েছেন। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে যুবলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকায় নেতাকর্মীদের কাছে বেশ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তার। কিন্তু তিনমাসের কমিটি নিয়ে ১১ বছর ধরে সম্মেলন করতে না পারার ব্যর্থতাও তিনি উড়িয়ে দিতে পারেন না বলে পদপ্রত্যাশীরা মনে করেন।
সভাপতি পদে এবার সবচেয়ে বেশি আলোচনায় সফিকুর রহমান পলাশ। তিনি ২০০৩ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে নগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নির্বাহী সদস্যের দায়িত্বেও ছিলেন। ছাত্রলীগের নেতৃত্ব ছাড়ার পর যুবলীগের কর্মকান্ডে নিজেকে সক্রিয় রেখেছেন।
এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে এখন পর্যন্ত একমাত্র প্রার্থী রয়েছেন নগর ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাহাজালাল সুজন। পরিচ্ছন্ন ছাত্ররাজনীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত শেখ সুজন আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের কাছে স্নেহভাজন। তিনি ২০১০ সালে খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উপ-পাঠাগার সম্পাদক, ২০১৫ সালে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। পারিবারিক দিক থেকেও শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজনের খ্যাতি রয়েছে। তার পিতা বীরমুক্তিযোদ্ধা শেখ শহিদুল হক ষাটের দশকে তুখোড় ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি খুলনা মহানগর শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ’৭৫ পরবর্তী সময়ে তিনি আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। শেখ সুজনের বড়ভাই শেখ শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন রাজনৈতিক পদ-পদবীতে না থাকলেও ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পরে দলের দুর্দিনে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখার কর্মকাণ্ড করতেন খুলনা শহরে। যা আজও নেতাকর্মীরা স্মরণ করেন।
কমিটি গঠনের বিষয়ে নগর যুবলীগের আহবায়ক আনিসুর রহমান পপলু বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কমিটি গঠনের কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। আর নতুন কমিটি গঠনের কোন কারণও নেই।’ সভাপতি প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই আমার সিদ্ধান্ত।
সভাপতি প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা সফিকুর রহমান পলাশ বলেন, ‘খুলনায় একই কমিটি দিয়ে দীর্ঘদিন যুবলীগ চলছে। নেতাকর্মীরা পরিবর্তন চায়। যদি এই মুহুর্তে নবীনদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়; তবে যুবলীগ আরও বেশি সংগঠিত হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা আমাকে নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই আমি মেনে নেব।’
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নগর ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজন বলেন, ‘আমার পিতা ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সপরিবারে শাহাদাৎবরণ করার পরে তার কন্যা সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করবার জন্য আমৃত্যু কাজ করে যান। আমার বড়ভাইও আমৃত্যু আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে গেছেন। আমিও ২০১০ সাল থেকে নগর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে রয়েছি। এই সময়ে নিজের সাধ্যমতো ছাত্রলীগকে সংগঠিত করেছি। আমার পিতা ও ভাইয়ের মৃত্যুর পর খুলনার আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা আমার অভিভাবক। যুবলীগের কমিটির বিষয়ে তারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই আমি মেনে নেব।’
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের এপ্রিলে মহানগর যুবলীগের সম্মেলনে এ্যাড. আনিসুর রহমান পপলু সভাপতি ও আলী আকবর টিপু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর ৫ বছর পর ২০০৮ সালের ৬ জানুয়ারী মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ৫১ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির আহবায়ক মনোনীত হন এ্যাড. আনিসুর রহমান পপলু ও যুগ্ম-আহবায়ক মনোনীত হন এস এম মনিরুজ্জামান সাগর ও হাফেজ মো: শামিম। তিন মাসের মধ্যে মহানগর যুবলীগের সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও গত ১১ বছরেও তা করা সম্ভব হয়নি আহবায়ক কমিটি কর্তৃক।