দুই দিনেই সিলেটের জয়

0
35

খুলনাটাইমস স্পোর্টস ঃ প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও বল হাতে আগুন ঝরালেন রুহেল মিয়া। গড়লেন ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো পেসারের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড। তার তোপে দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রæত গুটিয়ে গেল চট্টগ্রাম। সহজ লক্ষ্য পেয়ে দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলেই জয় তুলে নিল সিলেট। তরুণ বাঁহাতি পেসার রুহেলের ১৩ উইকেট পাওয়ার ম্যাচে ৯ উইকেটে জিতেছে তার দল। জাতীয় ক্রিকেট লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে চট্টগ্রাম গুটিয়ে যায় ১৬৫ রানে। সিলেটের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪২। ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেনের উইকেট হারিয়ে ৬ ওভারের মধ্যেই সেই রান তুলে ফেলে অলক কাপালীর দল। প্রথম ইনিংসে ২৬ রানে ৮ উইকেট নেওয়া রুহেল দুই ইনিংস মিলিয়ে ৬৫ রান খরচায় পেয়েছেন ১৩ উইকেট। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে কোনো পেসারের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের আগের রেকর্ডটি ছিল আল আমিন হোসেনের। ২০১১ সালে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ৮৯ রান খরচায় ১২ উইকেট নিয়েছিলেন খুলনার হয়ে। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে রোববার রান তাড়ায় ১৬ বলে চারটি চারে অপরাজিত ১৮ রান করেন সিলেটের ওপেনার শানাজ আহমেদ। ইফরান হোসেনের বলে আউট হওয়ার আগে আরেক ওপেনার ইমতিয়াজ ৮ বলে তিনটি চারে করেন ১৪ রান। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেটে ১৮৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে সিলেট, লিড ছিল ৮০ রানের। সেই লিড এরপর আর খুব বেশি বড় হয়নি। আগের দিন চার উইকেট পাওয়া চট্টগ্রামের পেসার ইফরান এদিন নেন আরও দুটি। রেজাউর রহমানকে ফিরিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো পান পাঁচ উইকেটের স্বাদ। আর রুহেলকে ফিরিয়ে ২৩০ রানে গুটিয়ে দেন সিলেটকে। ২২ ওভারে ৯৫ রান খরচায় ৬ উইকেট নেন ইফরান। ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন রাহাতুল ফেরদৌস। ১২৪ রানে পিছিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে নামা চট্টগ্রাম এবারও শুরুতেই ধাক্কা খায়। প্রথম ওভারে ইমরান আলির বলে ফেরেন ওপেনার পিনাক ঘোষ। আগের ইনিংসে ৮ উইকেট নেওয়া রুহেল আঘাত হানেন নিজের প্রথম ওভারেই। ফিরিয়ে দেন আলভি হককে। আরেক ওপেনার সাদিকুর রহমানের সঙ্গে মিলে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টায় ছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তাসামুল হক। কিন্তু ৫২ বলে ৬ রান করা তাসামুলকে ফিরিয়ে সেই জুটিও ভাঙেন রুহেল। চতুর্থ উইকেটে ইরফান শুক্কুরের সঙ্গে সাদিকুরের ৬৩ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে চট্টগ্রাম। ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিংয়ে ৬১ বলেই ফিফটি তুলে নেন সাদিকুর। তবে যেতে পারেননি বেশিদূর। ৮২ বলে আটটি চারে ৬২ রান করে ফেরেন রান আউট হয়ে। অন্যপ্রান্তে ইরফান এরপর একাই টেনেছেন দলের ইনিংস, পাননি যোগ্য সঙ্গ। টানা দুই ওভারে সাজ্জাদুল হক ও মাসুম খানকে ফেরান রুহেল। ফেরান শেষ ব্যাটসম্যান নোমান চৌধুরীকেও। ১১৬ বলে ৯টি চারে ৬৬ রান করা ইরফানকে ফেরান রেজাউর রহমান। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানে গুটিয়ে যাওয়া চট্টগ্রামের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ১৬৫ রানে। জাতীয় লিগে রুহেলের চেয়ে ভালো বোলিংয়ের রেকর্ড আছে কেবল আবদুর রাজ্জাকের। ২০১১ সালে বরিশালের বিপক্ষে ম্যাচে ১৯৩ রান খরচায় ১৫ উইকেট পেয়েছিলেন খুলনার অভিজ্ঞ এই স্পিনার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: ১০৬
সিলেট ১ম ইনিংস: ৬৫ ওভারে ২৩০ (ইমতিয়াজ ১৫, শানাজ ২১, তৌফিক ৬, অমিত ৫৫, কাপালী ৪১, গালিব ৪০, রাহাতুল ৩৯*, এনামুল জুনিয়র ০, রেজাউর ০, ইমরান ০, রুহেল ০; ইফরান ২২-২-৯৫-৬, নোমান ১৪-৪-৫৩-০, মাসুম ৫-০-২২-০, রনি ৯-২-২৮-১, সাজ্জাদুল ৭-২-১৩-১, শাখাওয়াত ৮-৩-১২-২)
চট্টগ্রাম ২য় ইনিংস: ৫১.১ ওভারে ১৬৫ (সাদিকুর ৬২, পিনাক ০, আলভি ০, তাসামুল ৬, ইরফান ৬৬, সাজ্জাদুল ১০, মাসুম ৪, শাখাওয়াত ২, ইফরান ৪, রনি ৪*, নোমান ০; ইমরান ১১-৪-২০-১, রুহেল ১৫.১-৫-৩৯-৫, রেজাউর ১৩-০-৫৩-২, কাপালী ২-০-১৪-০, এনামুল জুনিয়র ৮-২-২৭-১, গালিব ২-০-৭-০)
সিলেট ২য় ইনিংস: ৫.৫ ওভারে ৪৫/১ (ইমতিয়াজ ১৪, শানাজ ১৮*, তৌফিক ১১*; ইফরান ২-০-১৯-১, শাখাওয়াত ১-০-৯-০, রনি ১-০-১-০, সাজ্জাদুল ১-০-১০-০, তাসামুল ০.৫-০-৪-০)
ফল: সিলেট ৯ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রুহেল মিয়া (সিলেট)