দীর্ঘদিন ধরে হয়নি সেতু কয়রায় ৩ হাজার একর জমিতে জলাবদ্ধতা

0
98

ওবায়দুর কবির(সম্রাট):কয়রা :-

খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়ানের মঠবাড়ি গ্রামের শাকবাড়িয়া নদীতে ভেঙে যাওয়া সেতুটি ১০ বছরেও পুনর্র্নিমাণ করা হয়নি। চলাচলের জন্য আড়াআড়ি বাঁধ দেওয়ায় ওই নদী দিয়ে পানির প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে নদীর ওপর নির্ভরশীল ছয়টি বিলের প্রায় তিন হাজার একর জমিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটি নদীর মধ্যে ভেঙে পড়ে আছে।মানুষের চলাচলের জন্য নদীতে আড়াআড়ি দেওয়া বাঁধটির ওপর সড়কের মতো বিছানো আছে ইট। বাঁধের নিচে পানি নিষ্কাশনের জন্য বসানো পাইপ দিয়ে ধীরে ধীরে নিষ্কাশন হচ্ছে পানি।অন্য দিকে আবার নদীর কিছু কিছু স্থানে পাটা ও নেট জাল দিয়ে ঘেরা। ভুক্তভোগীরা জানান, শাকবাড়িয়া নদীর মহারাজপুর মঠবাড়ি গ্রামে একটি ছোট সেতু ছিল; যা পরিচিত ছিল মহারাজপুর ‘মঠবাড়ি বড় ব্রিজ’ নামে। সেতু থাকায় তখন পানি নিষ্কাশনের কোনো অসুবিধা হতো না। ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলায় সেতুটি ভেঙে যায়। এখন সেখানে একটি বাঁধ দিয়ে এলাকাবাসী চলাচল করছে। আর পানি নিষ্কাশনের জন্য দেওয়া হয়েছে ২০ ইঞ্চির দুটি পাইপ; যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।মহারাজপুর ইউনিয়ানের কালনা, যদু, মঠবাড়ি, শ্রীরামপুর, মহারাজপুর বিল ও কয়রা সদর ইউনিয়নের মদিনাবাদ বিলের বৃষ্টির পানিনিষ্কাশনে বাধা পাচ্ছে। সে কারণে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।বিলগুলোর জমির পরিমাণ প্রায় তিন হাজার একর। এই বিলগুলোর উপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার মানুষ।মহারাজপুর গ্রামের বাসিন্দা আশরাফ আলী গাজী (৬৫) বলেন, সেতুটি না থাকায় বিলের পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে ছয়টি বিলের জমি অধিকাংশ সময় পানিতে তলিয়ে থাকছে। একটু ভারী বৃষ্টি হলে সেই পানি নিষ্কাশন হতে সময় লাগে এক মাস। এবার পানিতে বিলগুলো ডুবে থাকায় আমরা কেউ ধান লাগাতে পারিনি।একই গ্রামের শফিকুল ইসলাম গাজী (৫২) বলেন, আমরা চেয়াম্যান, ইউএনও, এমপিকে বলেছি। সবাই বলে ‘এই তো হবে। ’ ১০ বছর ধরে শুধু শুনি সেতু হবে। তার জন্য প্রতি মাসে একবার করে মাপজোখ করে যায়। তারপর আর কোনো খোঁজ থাকে না।মঠবাড়িয়া এলাকার আবু নাইম (৪৮) বলেন, এই সেতু না হওয়ায় ছয়-সাত বছর ধরে জমিতে ঠিকমতো ধান করতে পারি না। আমার মতো কয়েক হাজার মানুষের একই অবস্থা।মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জি এম আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সেতুটি না হওয়ায় বিলগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে; যা এই উপজেলার একটি বড় সমস্যা। বারবার উপজেলা সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে কথা বলেছি। পিআইওকে বলেছি। তিনি বলেন, ৬০ ফুট একটি ব্রিজ করা হবে। তবে, কবে করা হবে জানি না।কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিমুল কুমার সাহা বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই।খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) সাংসদ আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, খুব শিগগির এখানে সেতু নির্মাণ করা হবে। এ ব্যাপারে কাজ এগিয়ে চলছে।