দাকোপে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম

0
565

আজিজুর রহমান, খুলনাটাইমস :
খুলনার দাকোপ উপজেলার তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রনজিৎ কুমার মণ্ডলের বিরুদ্ধে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগি লোকজনের অভিযোগ, ঈদুল আযহা উপলক্ষে ১৫ কেজি করে দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁদের ১০ থেকে ১১ কেজি ও সমুদ্রে মৎস্য আহরণে বিরত থাকা জেলেদের জন্য ৪৬ কেজি ছয়শত গ্রাম করে দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁদের ৩৫ থেকে ৩৬ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।

ওই ইউনিয়নে গেলে ভিজিএফের চাল পেয়েছেন অন্তত ২৫ জন এই চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ করেন। গড়খালি গ্রামের জাহিদ সানা বলেন, ১৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ১০ থেকে ১১ কেজি করে। প্রতিবাদ করলেও কেউ তোয়াক্কা করেননি।

বটবুনিয়া গ্রামের রোকন পাহাড় নামের আরেকজন বলেন, আমরা গরিব মানুষ বলে সরকার আমাদের কিছু সাহায্য-সহযোগিতা দেয়। তারমধ্য থেকে কমিশন খাচ্ছে চেয়ারম্যান।

উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, ঈদ উপলক্ষে দুস্থদের সহায়তা কর্মসূচির (ভিজিএফ) অংশ হিসেবে তিলডাঙ্গা ইউনিয়নে ৪ হাজার ৯৭০ জন অসহায় ও দুস্থ লোক এবং সমুদ্রে মৎস্য আহরণে বিরত থাকা জেলেদের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচির (খাদ্যশস্য) অংশ হিসেবে ৩৯০ জন জেলেকে ভিজিএফের কার্ড দেওয়া হয়েছে। সেই হিসেবে ৭৪.৫৫০ মেট্রিক টন ও ১৮.২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কার্ড পাওয়া ব্যক্তিরা প্রত্যেকে ১৫ কেজি ও ৪৬.৬৬৬ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। সোমবার (৫ আগষ্ট) ভিজিএফের এসব চাল বিতরণ করা হয়।

তিলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রনজিৎ কুমার মণ্ডল খুলনাটাইমসকে বলেন, ১০ থেকে ১১ কেজি করে চাল বিতরণ করার কথা ঠিক না। তবে ঈদের চাল সাড়ে ১৩ কেজি ও জেলে কার্ডের ৪৩ কেজি করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি গুদাম থেকে যে চালের বস্তাগুলো দেওয়া হয়েছে, সেখানে ওজন কম পাওয়া গেছে। আবার ভিজিএফের বরাদ্দ থেকেই লেবার ও পরিবহন খরচ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ কমে গেছে। তালিকা অনুযায়ী সবাইকে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার আগেও কয়েকবার আমাকে এভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়। চাল আত্মসাতের ঘটনা আজ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন তদন্ত করে তার সত্যতা পায়নি।

তিলডাঙ্গা ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারক কর্মকর্তা ও উপজেলা একটি বাড়ি একটি খামারের সমন্বয়কারি মনীষ রায় বলেন, প্রথমের দিকে বিতরণ কার্যক্রম ভাল ছিল। আমি ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে এই অনিয়ম শুরু করে। পরে সোমবার সন্ধ্যার দিকে অনিয়মের অভিযোগে চাল জব্দ করা হয়েছে।

চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল ওয়াদুদ মুঠোফোনে খুলনাটাইমসকে বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগ আমার কাছে আসে এবং সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছি। পরে ভুক্তভোগিদের মাঝে বিতরণকৃত চাল ওজন করে দেখি অনিয়মের বিষয় স্পষ্ট। তিনি আরও বলেন, আর একটি উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় এখনও পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে চাল জব্দ করে থানায় রাখা হয়েছে। কর্মস্থলে এসে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।