দাকোপে বাড়িতে না গিয়ে বিদ্যুৎ বিল তৈরি

0
835

আজিজুর রহমান, দাকোপ থেকে :
খুলনার দাকোপ উপজেলায় বৈদ্যুতিক মিটার স্থাপনের পরে ব্যবহার হচ্ছে। প্রতিমাসে প্রস্তুত করা হয় বিদ্যুৎ বিল। গ্রাহকেরা সময়মত পরিশোধ করে চলছে ধার্য্যকৃত বিল। কিন্তু ওই বিল তৈরি করতে মিটার রিডাররা গ্রাহকের বাড়িতে না গিয়ে মনগড়া বিদ্যুৎ বিল তৈরি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা কার্যালয়ের কক্ষে বসেই বিল তৈরি করছে। এরমধ্যে শত ভোগান্তি পেরিয়ে কয়েকজন সচেতন গ্রাহক বিল সংশোধন করেন। কিন্তু অধিকাংশ গ্রাহক প্রতারিত হচ্ছে।

এমন দৃশ্য উপজেলার সুতারখালি গ্রামে সম্প্রতি নতুন সংযোগ দেওয়া বৈদ্যুতিক মিটারে। সেখানকার মিটার ঠিকমত চললেও সঠিক তথ্য যাচাই করে বিল প্রস্তুত করা হয় না। সুন্দরবন সংলগ্ন ওই গ্রামের মানুষের রাস্তাঘাট, সুপেয় পানি ও কর্মসংস্থানের অভাবসহ নানান সমস্যার শেষ নেই। তবে আশার আলো হয়ে ওই ‘বিধ্বস্ত দ্বীপে’ নিভৃত গ্রামের ঘরে ঘরে এখন জ্বলছে বৈদ্যুতিক বাতি। কিন্তু সেখানে মিটার রিডারের প্রতারণায় শিকার হচ্ছে গ্রাহকরা।

উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্রমতে, নানা হতাশার মাঝেও বিদ্যুতের নতুন সংযোগ পাওয়ায় খুশি ওই গ্রামের মানুষ। অন্তত ৩‘শ ৭৫ পরিবার বিদ্যুতের নতুন সংযোগ পায়। খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আলোর ফেরিওয়ালা দুয়ার মিটারিং কার্যক্রমের আওতায় গ্রাহকরা এই সংযোগ পেয়েছিল।

ওই গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় চার মাস ব্যবহার করে মিটারের রিডিং সংখ্যার সঙ্গে প্রস্তুতকৃত বিদ্যুৎ বিলের কোনো মিল নেই। মিটারের সংখ্যা ঘুরছে কিন্তু সঠিক হয় না মিটার রিডারের প্রস্তুতকৃত বিদ্যুৎ বিল। এ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে ওই গ্রামের গ্রাহকরা।

সুতারখালি গ্রামের বাসিন্দা আরশাদুল গাজী জানান, মিটার স্থাপন করার পর থেকে কোনো সরকারি লোক বাড়িতে এসে বিদ্যুৎ বিল তৈরি করেনি। তিনি আরও বলেন, শুরু থেকে মিটারের সংখ্যা না দেখে বিল প্রস্তুত করায় আগামীতে বিল নিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সুতারখালি দক্ষিণপাড়ার গ্রাহক কৃষ্ণপদ মণ্ডল বলেন, অন্য জায়গায় বাড়িতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিল তৈরি করলেও আমাদের এলাকার চিত্রভিন্ন। সেখানে পল্লী বিদ্যুতের কোনো লোক না এসে বহিরাগত ব্যক্তি অতিরিক্তি উৎকোছ নিয়ে ইচ্ছামত বিল তৈরি করে দিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় অন্তত ২০ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের নিয়োগ দেওয়া মিটার রিডার মাত্র একবার এলাকায় এসেছিল। এরপরে আর দেখা মেলেনি। মিটার সঠিকভাবে না দেখে প্রতিমাসে মনগড়া একটি বিল তৈরি করে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে গ্রাহকের মাঝে পাঠিয়ে দেন। তারা আরও বলেন, এখন সঠিকভাবে বিল প্রস্তুত না করলে আগামীতে বিল তৈরি ও টাকা প্রদানে কিছু অসংজ্ঞতি দেখা যাবে। এ নিয়ে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত বিল প্রদানের আশঙ্কা করছে তাঁরা।

বিলের অসংজ্ঞতি ও আশঙ্কার বিষয় স্বীকার করেন মিটার রিডারের সহযোগি স্থানীয় জগবন্ধু বিশ্বাস। তিনি বলেন, সহযোগি হিসেবে প্রায় চারমাস ধরে গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে মিটার দেখে পল্লী বিদ্যুতের কার্যালয়ে জানায়। সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত না হওয়ায় গ্রাহক প্রতি অতিরিক্তি ১০ টাকা আদায় করে বিল দেখা ও জমার কাজ করছি।

দায়িত্বপ্রাপ্ত মিটার রিডার শহিদুল ফকির গ্রাহকের বাড়িতে নিজে গিয়ে বৈদ্যুতিক মিটার দেখে বিল তৈরির দাবি করে মুঠোফোনে বলেন, প্রথম মাসে সমস্যা ছিল। তারপর থেকে ৩৭৫টি মিটারের সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করে সমস্যার সমাধান করা হয়। তবে প্রস্তুতকৃত অসংজ্ঞত বিদ্যুৎ বিলের রশীদ ও গ্রাহকের নামের সত্যতা জানতে চাইলে মুঠোফোনে কথা বলতে না চেয়ে সরাসরি দেখা করতে চান। তিনি আরও বলেন, জগবন্ধুও অনেক মিটার দেখেন। সেক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত দুই একটি মিটারে অসংজ্ঞতি থাকতে পারে।

উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ব্যবস্থাপক মো. একানুর রহমান খুলনাটাইমসকে বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং পাশের কাজগুলোর দায়িত্ব থাকায় আমরা বিলের বিষয়ে কিছু করতে পারি না। তবে যদি এমন অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে যতটুকু সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে বলা হবে।