দাকোপে বাঁশির সুরে অতিথি পাখি শিকারে অভিনব ফাঁদ!

0
1083

আজিজুর রহমান,খুলনাটাইমস :

শীত মৌসুমের শুরু থেকেই খুলনার দাকোপ উপজেলায় অবাধে চলছে পাখি শিকার। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও শীতের শুরুতে হিমালয় ও সাইবেরিয়াসহ শীতপ্রধান দেশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে সুন্দরবন সংলগ্ন এ অঞ্চলে।

 

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একশ্রেণির অর্থলোভী শিকারীরা আইনের তোয়াক্কা না করে মেতে উঠেছে এসব অতিথি পাখি নিধনে। এ শিকারীরা অভিনব পদ্ধতিতে বাঁশি বাজিয়ে ফাঁদে ফেলে অতিথি পাখি শিকার করছে। পরে এসব পাখি আকারভেদে ৩শত থেকে শুরু করে ৫শত টাকা দরে বিক্রি করে বলে জানা গেছে। রশনাবিলাষী একশ্রেণির ক্রেতাদের কাছে এ মৌসুমে এসব পাখির কদর খুবই।

শীতপ্রধান দেশে এ সময়ে তীব্রশীত পড়াতে ওই অঞ্চলে অতিমাত্রা খাদ্যসংকট দেখা দেয়। একদিকে তুষারপাত অন্যদিকে খাদ্যসংকটের কারণে পাখিদের জীবন প্রায় বিপন্ন হয়ে পড়ে। তখন জীবন বাঁচানোর তাগিদে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম শীতের এই দেশটিকে অতিথি পাখিরা সাময়িক আবাসভূমি হিসেবে বেছে নেয়। শীত শেষ হলে আবার তারা নিজেদের দেশে ফিরে যায়। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয় হাজার হাজার অতিথি পাখির কলকাকলীতে মুখরিত হয়ে উঠেছে। এদের মধ্যে বালি হাঁস, বক, জলপিপি, কোম্বডাক, সরালী, কাস্তেচাড়া, পাতাড়ি হাঁস, পানকৌড়ি, কাদাখোঁচা, হুরহুর, খয়রা, সোনা রিজিয়া অন্যতম।

 

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় শতাধিক শিকারি অবাধে পাখি শিকার করে ভোরের আলো ফোটার আগেই তা বিক্রি করে থাকে। অসাধু শিকারীরা রাতে ধান খেতে বসে পাখির ডাকের সাথে সুর মিলায়ে বাঁশি বাজায়। উড়ান্ত পাখি বিভ্রান্ত হয়ে আকাশ থেকে নীচে নেমে শিকারির ফাঁদে পড়ে আটকে যায়। এছাড়া শিকারীরা নাইলনের সুতা দিয়ে ছোট বড় ফাঁদ তৈরি করে পাখির চলার পথে পেতে রাখে। রাতের বেলায় পাখিরা যখন উড়ে বেড়ায় তখন ওই ফাঁদে শত শত পাখি আটকে থাকে। আবার চোখে আলো ফেলে, কেঁচো দিয়ে বড়শি পেতে, কোচ মেরে ও কারেন্ট জাল পেতেও পাখি শিকার করে থাকে অসাধু শিকারীরা। সারা রাত ধরে সবমিলে নিধন করা হয় কয়েকশ অতিথি পাখি। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রশাসন এসব ব্যাপার দেখেও না দেখার ভান করে থাকে।

 

বাঁশি তৈরির পদ্ধতি ও অভিনব ফাঁদের কৌশল সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার চালনার এক শিকারি জানান, তালপাতার সঙ্গে কস্টেপ জড়িয়ে মোটরসাইকেলের হাইড্রোলিকের কাভারের এক মাথায় সুপারগুলু আঠা লাগিয়ে রাবারের সাহায্যে প্রস্তুত করা হয় আধুনিক ওই বাঁশি।
সরেজমিনে চালনা বাজারের সুতা ও মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ দোকানগুলোতে দেখা গেছে অসাধু শিকারীরা অভিনব ফাঁদ ও বাঁশি তৈরির জন্য দোকানিদের থেকে এসব সরঞ্জাম ক্রয় করছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পরিতোষ রায় খুলনাটাইমসকে  বলেন, তার কাছে এখনো পর্যন্ত অতিথি পাখি নিধনের কোন খবর আসেনি। কিন্তু এভাবে পাখি শিকার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ দাবী করে তিনি বলেন এটি বনবিভাগের দায়িত্ব। তবে ঘটনা সত্য হলে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।