ত্বকের সমস্যা মশার কামড় থেকে

0
76

খুলনাটাইমস লাইফস্টাইল: মশার কামড় থেকে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ছাড়াও ত্বকে হতে পারে ঘা।
যে কোনো মশা কামড়ালেই ডেঙ্গু হয় না। আবার যে কোনো এইডিস মশা কামড়ালেই যে ডেঙ্গু হয়ে যাবে ব্যাপারটা তেমন নয়। তবে যে কোনো মশা কামড়েই যা হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে তা হল ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ। সেখান থেকে হতে পারে চুলকানি, ফুসকুড়ি, র‌্যাশ, ঘা ইত্যাদি।
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের প্রধান ও অধ্যাপক এবং সিটি স্কিন কেয়ারের কর্ণধার ডা. রাশেদ মোহাম্মদ খান।
মশার কামড় থেকে ত্বকের সমস্যা নতুন কিছু নয়। এটা কারও বেশি হয় কারও আবার হয় না। যাদের অ্যালার্জির প্রবণতা বেশি তাদের এই সমস্যা বেশি হয়।
অনেক সময় একটি মশার কামড়েই দুতিনটি ফুসকুড়ি দেখা দেয়। সমস্যা আরও বেড়ে যায় চুলকানোর কারণে।
মশা কামড়ানোর সময় গায়ে মশা মারা কারণে, মশার হুল চামড়ায় থেকে যাওয়া, নখ বড় থাকলে তা দিয়ে চুলকানোর কারণে ক্ষত সৃষ্টি হওয়া, ঘুমের ঘোরে অতিরিক্ত চুলকানো ইত্যাদি বিষয় ত্বকের সমস্যার তীব্রতা বাড়ায়।
এই ক্ষত পরিষ্কার না থাকলে সেখানে নতুন সংক্রমণের কারণে তা ঘায়ে রূপ নিতে পারে।
সমস্যা নিয়ন্ত্রণ
প্রথমত মশা কামড়ালে ওই স্থানে নখ দিয়ে চুলকানোর প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আর ত্বক সুস্থ রাখার জন্য শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার করে ভালোমানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
নারিকেল তেল, জলপাইয়ের তেল, পেট্রোলিমায় জেলি, লোশন, ক্রিম ইত্যাদি যে কোনো কিছুই ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
মশার কামড় থেকে বাঁচতে ‘মসকুইটো রিপেলেন্ট ক্রিম’ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এই ধরনের ক্রিম অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণেও পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে
তাই এই ধরনের ক্রিম শরীরে মালিশ করে না লাগিয়ে বরং দুই হাতে মাখিয়ে শরীরে আলতো করে ছুঁইয়ে নিতে হয়।
শিশুদের ত্বক যেহেতু সংবেদনশীল তাই তাদের ক্ষেত্রে এই ক্রিম ব্যবহারে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
এছাড়াও কয়েল, স্প্রে, ‘লিকুইড মসকুইটো রিপেলেন্ট’ ইত্যাদিও ব্যবহার করা যায়। তবে মশারিই হবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবচাইতে নিরাপদ উপায়।
আর ত্বকে ফুশকুড়ি, র‌্যাশ দেখা দিলে কিংবা ঘা হয়ে গেলে সেখানে জীবাণুনাষক ক্রিম মাখা যেতে পারে।
ছবি: রয়টার্স।

চুল জট মুক্ত রাখার উপায় বর্ষা মৌসুমে
খুলনাটাইমস লাইফস্টাইল: বর্ষাকালে চুল পড়া, কোঁকড়াভাব ও রুক্ষতা দেখা দেয়। এজন্য চাই নিয়মিত চুলের যতœ।
রূপচর্চা-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে বর্ষাকালে চুল জট মুক্ত রাখার কয়েকটি উপায় এখানে দেওয়া হল।
মাথায় তেল দীর্ঘক্ষণ না রাখা: মাথায় তেল ব্যবহার করে অবশ্যই তা মালিশ করতে হবে এবং দুএক ঘণ্টা পরে তা ধুয়ে ফেলতে হবে। তেল মাথার ত্বকে বেশিক্ষণ থাকলে চুল ধোয়ার পরেও তা জটালো হয়ে যেতে পারে।
প্রতিদিন চুল না ধোয়া: এই সময় চুল খুব সহজেই তৈলাক্ত ও নির্জীব হয়ে যায়। তাই বলে প্রতিদিন চুল শ্যাম্পু করা ঠিক না। এতে চুল অতি শুষ্ক হয়ে ক্ষতি হতে পারে।
বৃষ্টিতে ভেজার পরে চুল পরিষ্কার করা: বৃষ্টিতে যদি ভিজে যান তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই চুল ধুয়ে নিতে হবে। বৃষ্টির পানি মাথার ত্বকে ব্যাক্টেরিয়া সৃষ্টি করতে পারে এবং ভেজা চুল বেঁধে রাখার কারণে আগা ফাটা ও রুক্ষতার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
কন্ডিশনার ব্যবহার: চুল পরিষ্কার করার পরে অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। এটা চুলের রুক্ষ ও কোঁকড়াভাব দূর করে।
ব্লো ড্রাই না করা: চুলের অবস্থা খুব বেশি খারাপ থাকলে ব্লো ড্রাই ব্যবহার করা যাবে না। এতে চুলের ক্ষতি হতে পারে। চুল ধোয়ার পরে সিরাম ব্যবহার করা ভালো। আর প্রাকৃতিক বাতাসেই তা শুকিয়ে নিন।

চর্বিযুক্ত খাবার সুন্দর ত্বকের জন্য
খুলনাটাইমস লাইফস্টাইল: চর্বি মানেই খারাপ নয়। সুন্দর ত্বক পেতে স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ করা যেতে পারে।
পুষ্টি-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে ত্বক ভালো রাখতে কয়েকটি তৈলাক্ত খাবারের নাম এখানে দেওয়া হল।
মাছ: ত্বকে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা চাইলে প্রতিদিনের খাবারে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ রাখা ভালো। এই অ্যাসিড চেহারায় বয়সের গতি ধীর করে এবং প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখে। ওমেগা থ্রি শক্তিশালী প্রদাহরোধী উপাদান সমৃদ্ধ যা ব্রণ দূর করে। তাই ত্বক সুন্দর রাখতে ওমাগা থ্রি সমৃদ্ধ মাছ খাওয়া উপকারী।
আখরোট: আখরোটে আছে ওমেগা থ্রি এবং মোনোআনস্যাচারেইটেড চর্বি যা সংক্রমণের কারণে হওয়া ব্রণ ও পানিভাব কমায়। এই বাদাম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা কোষকলা ভাঙন কমায় এবং সূর্যের কারণে হওয়া ত্বকের ক্ষতি পূরণ করে। তাই প্রতিদিন একমুট করে বাদাম খাওয়া যেতেই পারে।
জলপাই: জলপাই তার সৌন্দর্যরক্ষাকারী ক্ষমতার জন্য বেশ সুপরিচিত। এটা কোষ পুর্নগঠন করে, ক্ষয় পূরণ করে এবং ত্বক ভালো রাখে। এই ফল ভিটামিন এ, ই এবং মোনোআনস্যাচারেইটেড চর্বি সমৃদ্ধ যা ত্বককে উন্মুক্ত রেডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
জলপাই ত্বকের রংয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং অতিবেগুনি রশ্মির কারণে ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ উন্নত করতে সাহায্য করে।
সালাদে জলপাই যোগ করে প্রতিদিন এর খাবারের অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।
নারিকেল তেল: দৈনন্দিন রান্নার তেলের পরিবর্তে নারিকেল তেল দিয়ে রান্না করার অভ্যাস করা যেতে পারে। খারণ এই তেল ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। নারিকেল তেল ব্যাক্টেরিয়া ও ফাঙ্গাস রোধী উপাদান সমৃদ্ধ। আর অতিরিক্ত সংবেদনশীল ত্বকে খুব ভালো কাজ করে।


একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here