ডেট লাইন:কপিলমুনিতে পুকুর থেকে গৃহবধুর বিবস্ত্র মৃতদেহ উদ্ধার:ক্রমশ দানা বাঁধছে নানা রহস্য

0
283

শেখ নাদীর শাহ্,কপিলমুনি,(খুলনা)::

পাইকগাছার কপিলমুনির নগরশ্রীরামপুর গ্রামের দু’সন্তানের জননী গৃহবধু পপি বেগমের স্থানীয় পুকুর থেকে বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার ও ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন সম্পন্নের খবর প্রকাশে এলাকাবাসীর মনে নানা প্রশ্ন ঘুর পাক খাচ্ছে। আসলে পপি সেদিন গোসল করতে গিয়ে পুকুরে ডুবে মারা যান? নাকি তাকে হত্যা করে কেউ সেখানে তার ফেলে রেখেছিল? ইত্যাদি নানা প্রশ্ন স্থানয়িদের মনে বার বার ঘুর পাক খাচ্ছে। ঘটনার পর থেকে এনিয়ে এলাকাময় নানা গুঞ্জণ ক্রমশ দাঁনা বাঁধতে শুরু করেছে।

পপির পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়,সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ২ টার দিকে নগরশ্রীরামপুর গ্রামের লাভলু গাজীর স্ত্রী পপি বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি নির্জন পুকুরে গোসল করতে যান। দীর্ঘক্ষণ বাড়ীতে না ফেরায় খোঁজাখুজির একপর্যায়ে সন্ধ্যার কিছু পূর্বে পুকুরের জমাটবাঁধা ঝোপের নীচ থেকে ভাসমান অবস্থায় তার বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার হয়। স্থানীয়রা জানান, উদ্ধারের সময় পপির শরীরে শুধুমাত্র একটি ব্লাউজ ছিল। যার বোতামগুলিও উন্মুক্ত ছিল। স্থানীয় কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির এস আই বাবুল আক্তার খবর পেয়ে পরের দিন মঙ্গলবার সকালে পপির লাশের সুরোত হাল রিপোর্ট প্রস্তুত করলেও উভয় পরিবারের লিখিত অনাপত্তির কারণে তার লাশ ময়না তদন্তে পাঠায়নি পুলিশ। পরের দিন মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে পপির পিতার বাড়ী প্রতাপকাটির পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

ঘটনার পর থেকে পপির অস্বাভাবিক মৃতু্্যর ব্যাপারে তার পরিবারের পক্ষে কোথাও কোন অভিযোগ না হলেও বিষয়টি নিয়ে রহস্যময় মৃতু্য নিয়ে নানা গুঞ্জণ চলছিল। স্থানীয়রা জানান, চারিদিকে ফসল ও গাছপালা বেষ্টিত নির্জন পুকুরের ঝোঁপময় শ্যাওলার নীচ থেকে ভাসমান অবস্থায় পপির বিবস্ত্র লাশ উদ্ধারের বিষয়টি সেই প্রথম থেকেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়ে চলেছে। মৃতদেহ উদ্ধারের পর তার পেটে কোন পানি থাকা,। মৃত দেহের নাক ও কানে টাটকা রক্তের দাগ,নাক-ঠোঁটের কোনে কাটা দাগ,মাথা গর্ত স্বরুপ নীচুসহ নানা কারণে মৃতু্্যটি উদ্ধারকারী থেকে শুরু করে ধৌতকারী ও সচেতন এলাকাবাসীকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। শ্রীরামপুর গ্রামের রাজ্জাক ও সাইফুল্লা সরদার,রজব আলী,মাহতাব সরদারসহ বিভিন্নজনের সাথে কথা বলে উঠে আসে এসব তথ্য।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সম্পূর্ণ সুস্থ্য মস্তিষ্কের পপি বেগম সোমবার দুপুরে স্বাভাবিক ভাবে পায়ে হেঁটে নিশ্চই বিবস্ত্র অবস্থায় পুকুরে যাননি! তাছাড়া ব্লাউজের বোতামগুলোও কেন উন্মুক্ত থাকবে?

এদিকে পপির লাশ উদ্ধারের খবর প্রকাশের পর তার স্বামী শ্রীরামপুরের সামাদ গাজীর ছেলে লাভলু গাজী সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর অজানা তথ্য। যাতে পপির মৃতু্যর বিষয়টি ক্রমশ রহস্যময়তার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে!

সূত্রমতে, পপির স্বামী লাভলু কপিলমুনির এক রাইচ মিল শ্রমিকের স্ত্রীর সাথে পরকীয়াশক্ত ছিলেন। গত ১৫ জুন রাতে ঐপরকীয়া প্রেমিকার সাথে বাজারে তার ভাড়া বাড়ীতে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হলে মহিলার স্বামী তাদের আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে। এসময় তারা ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে নিতে উল্টো ঐমহিলার স্বামীকে মারপিট করে তারা। জীবননাশের হুমকিও দেয়া হয় তাকে। ঘটনায় ভুক্তভোগী নিরুপায় স্বামী ঐ রাতেই স্থানয়ি পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এর মাত্র সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ঐমহিলা তার স্বামীকে ডিভোর্স দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পপির দাম্পত্য জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পপির মৃতু্্যর পিছনে এটিও কারণ হতে পারে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী।

এদিকে মৃত পপির লাশের পাশে বসে সোমবার তার পিতা-মাতা পপিকে হত্যা করা হয়েছে বলে আহাজারি করলেও সর্বশেষ কোথাও কোন অভিযোগ করেননি।

এদিকে পপির চাচা আব্দুল্যা গাজী জানান, পপিকে হত্যা করা হয়েছে। মামলা করলেন না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমার ভাই নীরিহ ও অতিশয় গরীব মানুষ। তাই মামলা মোকদ্দমায় জড়াতে চায়না। তবে প্রশাসনিক তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে পপির মৃতু্য রহস্য বলেও এলাকাবাসীর পাশাপাশি দাবি তারও।

প্রসংগত, সোমবার দু’ সন্তানের জননী পপি বেগম (২০) দুপুর বেলায় এক প্রতিবেশীর পুকুরে গোসল করতে যায়। এদিন সন্ধ্যার একটু আগে ঐ পুকুর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।