ডুমুরিয়ার ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে অনুদান থেকে বঞ্চিত মৎস্যজিবীরা

0
56

এস রফিক, ডুমুরিয়া:
মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালীন সময়ে দেশে সর্বত্র ইলিশ শিকারী মৎস্যজিবীরা সরকারি অনুদান পেয়ে আসলেও ডুমুরিয়ার মৎস্যজিবীরা বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে সিমাহীন মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা বলে জানা গেছে। ডুমুরিয়ায় সাত শতাধিক সামুদ্রিক ইলিশ শিকারী মৎস্যজিবী থাকলেও তারা ইলিশ শিকারী মৎস্যজিবী হিসেবে তালিকা ভূক্ত না হওয়ায় এমনটি ঘটেছে বলে জানান উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর।তবে আশার কথা হল আগামী বছর থেকে তারা অনুদান পাবে বলে আশ্বস্ত করেছেন জেলা ও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর।উপজেলা মৎস্য অফিস ও বিভিন্ন জেলে পল্লীতে গিয়ে কথা বলে জানা যায় ডুমুরিয়ায় ৪ হাজার ৯‘শ ২৩জন তালিকা ভূক্ত মৎস্যজিবী রয়েছে।এদের মধ্যে বেশীর ভাগ মৎস্যজিবী ১২ মাসই মৎস্য আহরন করে জীবিকা অর্জন করে থাকে। মৎস্য আহরন্ তাদের একমাত্র পেষা। এরমধ্যে ৭৫০জন মৎস্যজিবী রয়েছে যারা গভীর সমুদ্রে গিয়ে ইলিশ শিকার করে থাকে। আর অন্যরা ছোট-খাট নদীতে জাল ধরে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে।কিন্ত মা ইলিশ মা সংরক্ষণ অভিযান চলাকালীন সময়ে (৯-৩০ অক্টোবর) সকল মৎস্যবিজীর মৎস্য শিকার বন্ধ। এতে একদিকে মাছ শিকার বন্ধ অন্যদিকে সরকারি অনুদান না পাওয়ায় অতি কষ্টে দিন কাটছে তাদের।এ নিয়ে কথা হয় মৎস্যজিবী সমিতির সভাপতি বিধান বিশ্বাস,মঠবাড়িয়া এলাকার সুকুমার বিশ্বাস,শরাফপুর-তৈয়বপুর এলাকার বিষ্ণু বিশ্বাস,নিত্য বিশা¦সসহ অনেকের সাথে।তারা অভিযোগ করে বলেন দেশে সর্বত্র মৎস্য জিবীরা সরকারি অনুদান পেয়ে আসলেও আমরা কেন বঞ্চিত? কি অপরাধ করেছি আমরা এমটি উল্লেখ করে তারা বলেন আমাদেন নেই জায়গা-জমি,ক্ষেতের কাজ করতে পারি না,এখন সংসার অচল হয়ে পড়েছে,সিমাহীন দূর্ভোগে পড়েছি আমরা।দেশের ছোট নদীতে তো ইলিশ নাই, সেখানে মাছ ধরলে কি ক্ষতি ছিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। খুলনা জেলার দাকোপ,বটিয়াঘাটা,দিঘলিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় মৎস্যজিবীরা সরকারি অনুদান পেলেও ডুমুরিয়ার মৎস্যজিবীরা কেন বঞ্চিত ? এমন প্রশ্ন করলে উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন ডুমুরিয়ায় সাত সতাধিক সামুদ্রিক ইলিশ শিকারী মৎস্যজিবী থাকলেও তারা ইলিশ শিকারী মৎস্যজিবী হিসেবে তালিকা ভূক্ত না হওয়ায় এমনটি ঘটেছে।
কবে নাগাত ডুমুরিয়ার মৎস্যজিবীরা সরকারি অনুদান পাবে এমনটি জানতে চেয়ে কথা হয় জেলা মৎস্য
কর্মকর্তা মোঃ আবু ছাইদের সাথে।তিনি জানান ২০১০ সাল থেকে (৯-৩০ অক্টোবর) মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলছে,এতে ইলিশের উৎপাদন দ্বিগুন বেড়েছে।এ অভিযান অব্যহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন আগামী বছর থেকে ডুমুরিয়ার ইলিশ শিকারী মৎস্যজিবীরা ২০কেজি হারে ভিজিএফ‘র চাল পাবে।