টেলিভিশন নাটকের ৫ হাজার লোক বেকার ঘণ্টায় লোকসান ৮৩ লাখ টাকা

0
110

খুলনাটাইমস বিনোদন: গত ২২ মার্চ থেকে টেলিভিশন নাটকের সব ধরনের শুটিং বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু এই শিল্পের উপর বেঁচে আছে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। যাদের সবাই এখন বেকার ও ঘরবন্দি। এতে প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকা (প্রতি ঘণ্টায় ৮৩ লাখ টাকার বেশি) লোকসান হচ্ছে। টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সভাপতি মাসুম রেজা এ তথ্য জানিয়েছেন। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই চিত্রনাট্যকার বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে আমাদের যে টার্নওভার ছিল, সেটা ২০ কোটি টাকার। প্রোডাকশন হাউস, টেকনিক্যাল হাউস, কাস্ট অ্যান্ড ক্র, শুটিং কস্ট, আর্টিস্ট পেমেন্ট, ডিরেক্টর পেমেন্টে, রাইটার পেমেন্ট এ সমস্ত কিছু মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকার টার্নওভার হতো। এটা আমার অ্যাসেসমেন্ট। টাকার অঙ্কটা হয়তো অল্প এদিক-সেদিক হতে পারে।’ এই ইন্ডাস্ট্রিকে কেন্দ্র করে প্রতি মাসে বড় অঙ্কের টাকা টার্নওভার হয়। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে তা মনে হয় না। কত জায়গায় শুটিং হচ্ছে, কত মানুষ কাজ করছে, প্রোডাকশন হাউসের ভাড়া, লাইটের ভাড়া, ক্যামেরার ভাড়া, সম্পাদনার খরচÑ যার সবই এখন বন্ধ রয়েছে। এসব হিসাব করলে অনেক বড় অঙ্কের টাকা দাঁড়ায় বলে জানান এই নাট্যকার। ‘একটি নাটক যখন চ্যানেলে প্রচার হয়, তখন ওই চ্যানেল মিনিমাম ৩-৬ লাখ টাকা পায়। প্রতিদিন যদি বিভিন্ন চ্যানেলে ৪০টি নাটক প্রচার হয়। প্রতি নাটকে যদি মিনিমাম ৩ লাখ টাকা চ্যানেল পেয়ে থাকে, তবে এক দিনে এখানে ১২ কোটি টাকা। এটা শুধু প্রচারের ক্ষেত্রে। চ্যানেল, আর্টিস্ট, আন্যান্য কলাকুশলী মিলিয়ে এখানে ২০ কোটি টাকার টার্নওভার হয়। যার পুরো টাকাটাই এখন লোকসানে।’ বলেন মাসুম রেজা। এই ইন্ডাস্ট্রিকে কেন্দ্র করে মোটা অঙ্কের লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন টেলিভিশন নাটকের পরিচালকদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিক। তিনি বলেন, ‘করোনা সংকটের কারণে নাট্য সংশ্লিষ্ট সবাই লোকসানের মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি সরকারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। এ কারণে আমাদের একটা স্টাডি করতে হয়েছে। তাতে দেখতে পেয়েছি, প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।’ গোটা পৃথিবী যে সময়ে এই মহামারির কবলে পড়েছে, ঠিক তখন নীরবে কেটে গেল কোটি কোটি বাঙালির প্রাণের উৎসব বর্ষবরণ। এরপর সামনে ঈদুল ফিতর, তার কয়েক মাস পর ঈদুল আজহা। পরপর তিনটি বড় উৎসব থাকার কারণে বর্তমান সময়টাতে ভীষণ ব্যস্ত সময় কাটানোর কথা ছিল শিল্পী-কুশলীদের। এই তিনটি উৎসবকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয় অন্তত পাঁচ থেকে সাতশ’ নাটক-টেলিফিল্ম। মাসুম রেজা বলেন, ‘ধরে নিলাম, এই সময়ে ৫০০ নাটক তৈরি হয়। এখন প্রতি নাটক নির্মাণে দুই লাখ টাকা খরচ হলেও ৫০০ নাটক নির্মাণে খরচ হয় ১০ কোটি টাকা। যে টাকার লেনদেন পুরাটাই বন্ধ। আমাদের এটা অনেক বড় শিল্প হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এটা বাৎসরিক দুই হাজার কোটি টাকার শিল্প। এই শিল্পের উপর বেঁচে থাকে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। যারা আজ সবাই বেকার।’