জঙ্গল বাড়িতে পরিণত হওয়ার আশংকা শেখ আবু নাসের বিভাগীয় স্টেডিয়াম ! শেষ ভরসা প্রধানমন্ত্রী : শেখ সোহেল

0
1070

 

 

আসাদুজ্জামান রিয়াজ : শেখ আবু নাসের বিভাগীয় স্টেডিয়াম জঙ্গল বাড়িতে পরিণত হতে যাচ্ছে। প্রায় দু’বছর আগে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্টেডিয়ামটি অদ্যবধি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তার উপর চলতি বছর ঝড়ে পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্টেডিয়ামের প্লেয়ার্স ড্রেসিং রুম, মিডিয়া রুমের এসির সংযোগও। আর ভাঙ্গাচোরা দর্শকদের বসার চেয়ার। বড় খেলা হওয়ার জন্য নেই সাইড স্ক্রিনও। অকেজো ফ্লাড লাইটগুলো। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামে খেলোয়ারদের প্রবেশ-বাহির হওয়ার জন্য জরুরী গেইট জরুরি হলেও এখানে তা অনুপস্থিত। এসব সমস্যার কারণে কোন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা হচ্ছে না।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের লাকি ভেন্যু হিসেবে পরিচিত দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি দীর্ঘদিন ধরে আছে খেলাবিহীন অবস্থায়। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বর্তমান অবস্থায় আন্তর্জাতিক মানের খেলা অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত নয় স্টেডিয়ামটি। সংস্কারে অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন।
এদিকে শেখ আবু নাসের বিভাগীয় স্টেডিয়ামে খেলার আয়োজন না থাকায় চরমভাবে ক্ষুদ্ধ¦ খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্রিকেটপ্রেমীসহ সাধারণ মানুষ। যে কোন মুল্যে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম খেলার উপযোগী করে তোলার দাবি তাদের।
ফ্লাশব্যাক : খুলনা-যশোর মহা-সড়কের বৈকালী ও মুজগুন্নী এলাকার ঠিক মধ্য সীমানায় অবস্থিত খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। শেষ হয়েছে ১৯৯৭ সালে। আওয়ামী লীগ সরকার এই স্টেডিয়ামের নামকরণ করে শেখ আবু নাসের বিভাগীয় স্টেডিয়াম নামে।
বিগত ২০০৪ সালে নতুন গ্যালারিতে সাজানো হয় স্টেডিয়ামটি। এতে দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার। ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে ওয়ানডে মর্যাদা পাওয়ার পর একই বছর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল এই মাঠে ২টি ওয়ানডে খেলেছিল কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। বাংলাদেশের প্রথম টি-২০ ম্যাচটিও হয়েছিল এখানেই। প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে।
খুলনার মাটিতে অনুষ্ঠিত তিন ধরনের ক্রিকেটেরই স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে সবগুলো টি-২০ এবং ওয়ানডে ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আর এ মাঠে দেখা গেছে বেশকিছু বিশ্বরেকর্ডও। তাই তো খুলনার এ স্টেডিয়ামকে লাকি ভেন্যুও বলা হয়।
এদিকে নির্মাণের ২০ বছর যেতে না যেতেই আজ জঙ্গল বাড়িতে পরিনত হতে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি। সংস্কারও হয়েছে বেশ কয়েকবার। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বলছে এখন আর এই স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক মানের খেলা অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত নয়। কোনমতে সংস্কার হলে হবে না,এটির ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজন। সে জন্য যে পরিমান অর্থ প্রযোজন তা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া সম্ভব নয়।
আসলে ‘সবাই যেন উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে’ চাপানোর চেষ্টা করেছেন। এ অবস্থায় সম্প্রতি খুলনা টাইমসের সঙ্গে খোলামেলা কথা হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পরিচালক ও খুলনাসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের হৃদয়ের স্পন্ধন, তারুণের প্রতিক শেখ সোহেলের সঙ্গে। স্টেডিয়াম কেমন আছে জানতে চাইলে ?
শেখ সোহেল : আন্তর্জাতিক মানের কোন খেলা অনুষ্ঠানের জন্য এখন উপযুক্ত নয় এটি। এর নির্মাণ কাজে বেশ ত্রুটি থাকায় সংস্কার করেও কোন কাজে আসছে না। ‘আমি অনেক চেষ্টা করেছি। সংস্কার করে খেলার উপযোগী করে তোলা যায় কিনা। পরিস্থিতি এমন যে কোনমতে সংস্কার করে এখানে খেলা অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষজ্ঞারা ভয় পাচ্ছে। খেলা চলাকালিন কোন দূর্ঘটনা ঘটলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ম্যাচের ভ্যানু থেকে বাংলাদেশ বাধ পড়ারও আশংকা থেকে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে স্টেডিয়ামটি আমুল সংস্কারের প্রয়োজন। মূল ভিত থেকে এর সংস্কার দরকার।
তাহলে কি পরিত্যক্ত ঘোষনা হতে যাচ্ছে স্টেডিয়াম ?
শেখ সোহেল : না তা হবে না। ‘আমার শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও খুলনাবাসীর প্রাণের এই স্টেডিয়াম রক্ষা করবো।’ একটু ধর্য্য ধরতে হবে।
পরিকল্পনা কি ?
বিসিবি পরিচালক শেখ সোহেল : আমার আপ্রাণ চেষ্টা আছে মাঠের সব ধরনের গুণগত মান ফিরিয়ে আনার। এখানে যত বেশি খেলা হবে এই মাঠে সাথে জড়িত সকল কর্মী ও এঅঞ্চলের ক্রিড়াপ্রেমি মানুষের মধ্যে প্রাণচঞ্চলতা তত বাড়বে। শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম শুধু ইতিহাসের একটি অংশই নয় এটি এ অঞ্চলের মানুষের আশা-আকাংখার প্রতিফলন। স্টেডিয়ামটি বর্তমান অবস্থা থেকে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আনতে যে বাজেট প্রয়োজন তা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদদের সাধ্যের বাইরে।
শেখ সোহেল বলেন, ‘আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি ‘আপার’ সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে একান্ত কখা বলবো।’ আপাকে সব খুলে বললে তিনি এর সমাধানের রাস্তা বের করে দিবেন।