খুলনায় শিশু গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদন্ড

0
808

নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনার খালিশপুরের বাস্তহারা কলোনীর শিশু আফসানা মিমিকে (১৪) গণধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায়ে ২ জনকে মৃত্যুদন্ডর আদেশ দিয়েছেন আদালত। দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন-খালিশপুরের বাস্তহারা এলাকার মৃত আব্দুল কাদের হাওলাদারের ছেলে মো. বাবুল হাওলাদার ওরফে কালা বাবুল (৩৮) ও সাদেক হোসেনের ছেলে এমদাদ হোসেন (৩৭)।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ মহিদুজ্জামান আলোচিত এই গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। একই সাথে মৃত্যুদন্ডর দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদ্বয়কে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এ মামলায় খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন, খালিশপুরের বাসিন্দা মোজাফ্ফর আহমেদের ছেলে মো. আশা মিয়া (২২), মো. আব্দুল বাশার হাওলাদারের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলি (২৪), মৃত. ফজলুর রহমানের ছেলে মো. জাহিদুল ইসলাম ওরফে জাহিদ (৪০) ও আব্দুল মোতালেব হাওলাদারের ছেলে মো. নজরুল ইসলাম (৩৫)। রায় ঘোষণার সময় আসামীরা সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদ ও বাদি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মোমিনুল ইসলাম।
অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, আফসানা মিমিকে (১৪) গণধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায়ে ২ জনকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে মৃত্যুদন্ডর দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদ্বয়কে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মামলার বাদি মিমির বাবা মো. ইমাম হোসেন এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আসামিদের দ্রæত মৃত্যুদন্ড কার্যকরের দাবি জানান।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১৫ নভেম্বর রাত ৭টার দিকে খালিশপুর থানাধিন বাস্তহারা কলোনীর রোড নং-৯, বাড়ি নং-৪৯৮ এর বাসিন্দা মো. ইমাম হোসেনের ১৪বছরের শিশু কত্যা আফসানা মিমি ২ টাকা নিয়ে ঝালমুড়ি কিনতে যায়। কিন্তু অনেক সময় পরেও সে বাড়ি ফিরে না আসায় খোঁজাখুজি করে তাকে না পেয়ে ইমাম হোসেন রাতেই খালিশপুর থানায় জিডি করেন। পরের দিন দুপুর ৩টার দিকে মাদ্রাসার খাদেম কুদ্দুস আফসানা মিমির লাশ বাস্তুহারা দিঘিতে পেয়ে ইমাম হোসেনকে খবর দেন। এ ঘটনায় ইমাম হোসেন খালিশপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন যার নং-১৭। অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করলেও ইমাম হোসেন এজহারে উল্লেখ করেন এলাকার কালা বাবুল, কাদের ও এমদাদসহ অন্যান্যরা তার মেয়ে আফসানা মিমিকে উত্যক্ত করত। ২০১০ সালের ২৩ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু মোকাদ্দেশ আলি আদালতে ৬জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় ১৮ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ১৩ জন স্বাক্ষ্য প্রদান করেছেন।