খুলনায় নারী নিয়ে ফাঁদ পেতে মুক্তিপণ আদায় : চার অপহরণকারী গ্রেফতার

0
210

নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনায় নারী দিয়ে ফাঁদ পেতে এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করায় চার অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময়ে ওই চক্রের দুই সদস্য পালিয়ে যায়। বুধবার রাত ১০টার দিকে মহানগরীর লবণচরার থানাধীন মোহাম্মদীয়া পাড়া আমতলা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এময়ে ওই অপহরণের শিকার ইয়ামিন শেখ (২৮) কে উদ্ধার করা হয়। তিনি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার শ্রীফলতলা এলাকার মোঃ মতি শেখের ছেলে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- লবণচরার আমতলা এলাকার নওয়াব আলীর ছেলে মোঃ মঞ্জু শেখ (৫০), লবণচরার মোহাম্মদীয়া পাড়া বাজার এলাকার সুলতান গাজীর ছেলে মোঃ রুহুল আমিন গাজী (৪৫), সাতক্ষীরা আটুলিয়া গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী আছিয়া বেগম (৩২) ও লবণচরার সামসু মাতুব্বরের মিল এলাকার মোক্তার হোসেনের স্ত্রী নাজমিন (২২)। এসময় মোঃ মোশারফ হোসেন (৬০) ও মোঃ লিটন পালিয়ে যান।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু জানান, এক মাস আগে অপহৃত ইয়ামিনের সাথে অপহরকারী নাজমিনের পরিচয় হয়। তারা নাজমিনকে দিয়ে ফাঁদ পেতে ইয়ামিনকে অপহরণ করে মুক্তিপন আদায়ের পরিকল্পনা করে। পরে ১৬ অক্টোবর ইয়ামিনকে বাগেরহাট রামপাল থেকে ফুঁসলিয়ে মোহাম্মদীয়া পাড়ায় আনে। এরপর তারা আমতলা মহিলা মাদ্রাসার একটি পরিত্যাক্ত রুমে নিয়ে হাত বেধে মারধর করে ইয়ামিনের নিকট দুই লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ পরিশোধের জন্য ইয়ামিনের আত্মীয়ের নিকট একটি বিকাশ নম্বর প্রদান করে।
পরে রাত পৌনে ১০টার দিকে দারোগার লীজ নামক স্থানে মুক্তিপণের টাকা নিতে আসলে সেখানে আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা লবণচরা থানা পুলিশ আসামী আছিয়া, নাজমিন ও রুহুল আমিনকে আটক করে। তাদের স্বীকারোক্ত মতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোহাম্মদীয়াপাড়া আমতলা মহিলা মাদ্রাসার ঐ পরিত্যাক্ত রুম থেকে অপহৃত ইয়ামিনকে পুলিশ উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে আসামী মঞ্জু শেখকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামী মোশারফ ও লিটন পলিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা যায়- আসামীরা একটি পেশাদার অপহণকারী চক্র। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ নারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন লোককে ফাঁসিয়ে আটক করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছে। উক্ত ঘটনার বিষয়ে লবণচরা থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হইয়াছে।