খুলনায় আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ ঘিরে জল্পনা-কল্পনা

0
2271

এম জে ফরাজী : প্রায় ৫ বছর পর আগামী ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। এবারই প্রথম একই দিনে একই মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে দলটির মহানগর ও জেলা ইউনিটের সম্মেলন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক-পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
দক্ষিণাঞ্চলের আওয়ামী রাজনীতিতে খুলনা মহানগর ও জেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে বিবেচিত। তাই সম্মেলনকে সামনে রেখে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা সরব হয়ে উঠেছে। জেলা ও নগরের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী একাধিক প্রার্থী না থাকলেও সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন একঝাঁক তরুণ নেতৃত্ব। দলের মধ্যে চলমান শুদ্ধি অভিযানের মাঝে কাঙ্খিত এই সম্মেলনে সংগঠনের দীর্ঘদিনের ত্যাগী-পরিক্ষিত ও ক্লীন ইমেজের কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব গড়ে উঠবে এমন প্রত্যাশা তৃণমূলের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে শেখ পরিবারের সমর্থন বা মৌন সমর্থনকে ফ্যাক্টর মনে করেন পদ প্রত্যাশীরা। আর এই পরিবারের নেতৃত্বে রয়েছেন জাতির পিতার ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি। ফলে মূল দল আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের জেলা বা নগর কমিটিতে শীর্ষ পদে কে স্থান পাবে তা অনেকাংশই নির্ধারণ হয় সেখান থেকে।
দলের নেতাকর্মীরা জানান, মহানগর ও জেলা কমিটির সম্মেলনে এখনও সভাপতি পদে একক প্রার্থী হিসেবে নগরের বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব তালুকদার আবদুল খালেক ও জেলা সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিক শেখ হারুনুর রশিদের নাম আলোচিত হচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে জেলায় ৬ এবং মহানগরে ৩ জনের নাম উঠে এসেছে।
নগর শাখায় সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী আছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান, নগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম ও সদর থানা সভাপতি এ্যাড. সাইফুল ইসলাম। আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ‘বর্তমান কমিটির সভাপতি- সাধারণ সম্পাদককে বহাল রাখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সভাপতি পদে তালুকদার আব্দুল খালেক ও সাধারণ সম্পাদক পদে মিজানুর রহমান মিজানকে ‘শেখ পরিবার’ সবুজ সংকেত দিয়েছে। এদিকে জেলার সাধারণ সম্পাদক পদেও জন্য প্রার্থীদের আমলনামাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে ওই সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, জেলার সাধারণ সম্পাদক পদের দৌড়ে আছেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুজিত অধিকারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরফুদ্দিন বিশ^াস বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল ও আকতারুজ্জামান বাবু এমপি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অসিত বরণ বিশ্বাস ও বটিয়াঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম খান। প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে তারা ‘শেখ পরিবারের’ সবুজ সঙ্কেত পেতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
এদিকে জেলা সভাপতি রাজনীতিতে প্রবীণ হওয়ায় সাধারণ সম্পাদক পদে এবার তারুণ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রার্থীদের মধ্য থেকে তাদের আমলনামা গুরুত্ব দিয়ে পরিচ্ছন্ন, ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দলীয় একাধিক নেতা জানান, বিগত ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ বটিয়াঘাটায় সুধা রানী দাস নামের শিক্ষা কর্মকর্তাকে লাঞ্চিত করা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে অশালীন আচরণের ঘটনা আশরাফুল আলম খানের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে তার চাচাতো ভাই আমির এজাজ খান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। একই বাড়িতে বসবাসকারী দুই ভাই, দুই দলের নেতা হবে এমন খবরে রীতিমত হইচই ফেলে দিয়েছে আওয়ামী শিবিরে। তবে আশরাফুল আলম খান নিজেকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে দাবি করে বলেন, আমি ১২ বছর জেলা সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। তিনবার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। এলাকার জনগণকে বেশি করে সময় দিতে হয় এটাই স্বাভাবিক। তবে সকল উপজেলার নেতৃবৃন্দের সাথেই যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি তার।
অপর প্রার্থী তেরখাদা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চুর সর্বশেষ নির্বাচনে পরাজয় তার ইমেজ খানিকটা ম্লান করে দিয়েছে। গত উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকা পেলেও তাকে বিপুল ভোটে পরাজয় বরণ করতে হয়। তবে তিনি বলেন, একটানা ১০ বছর উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। জনগণের জন্য কাজ করতে গেলে কিছু ভুলত্র“টি হয়। তার মতে, শেখ পরিবারের সমর্থন ছাড়া খুলনায় নেতা হওয়ার সুযোগ নেই।
বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল বলেন, তৃণমূলের কর্মীরাই দলের শক্তি। তাদের মনোভাব ও মতামতের গুরুত্ব বিবেচনা করেই জেলা সাধারণ সম্পাদক বেছে নেয়া উচিত।
অপর প্রার্থী অসিত বরণ বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি খুলনার রাজনীতির সাথে জড়িত। একসময় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছি, এখন খুলনার নীতি-নির্ধারকরা চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসতে চাই।
এ ব্যাপারে শেখ পরিবারের কর্ণধার শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা পরিচ্ছন্ন নেতৃত্বের পক্ষে। তিনি দলকে শক্তিশালী করতে যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করবেন। আমরা তার সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল।
২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়। সম্মেলনে বর্তমান সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক সভাপতি এবং সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। অপরদিকে ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হয়েছিল। সম্মেলনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ সভাপতি এবং সাবেক সংসদ সদস্য এসএম মোস্তফা রশিদী সুজা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা রশিদী সুজা কিডনিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই মারা যান। এর পরপর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গাজী আব্দুল হাদিও মারা যান। তারপর থেকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন এ্যাড. সুজিত অধিকারী।


একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here