খুলনায় অতিরিক্ত মদ্যপানে নারীসহ আটজনের মৃত্যু

0
3388

এম জে ফরাজী : খুলনায় শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিমা বিসর্জনের পর অতিরিক্ত মদ্যপানে নারীসহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে মঙ্গলবার রাতে একজন ও বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাকি সাতজনের মৃত্যু হয়। খুলনার সিভিল সার্জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এসব মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করেছেন।
মৃতরা হলেন- রূপসা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের সমীর বিশ্বাসের স্ত্রী ইন্দ্রানী বিশ্বাস (২৫), নির্মল দাসের ছেলে দিপ্ত দাস (২২), সত্যরঞ্জন দাসের ছেলে পরিমল দাস (২৫), খুলনা সদর থানাধীন গ্লাক্সো মোড়ের প্রদীপ শীলের ছেলে সুজন শীল (২৬), ভৈরব টাওয়ার সংলগ্ন এলাকার মানিক বিশ্বাসের ছেলে রাজু বিশ্বাস (২৫), রায়পাড়া ক্রস রোডের বিমল শীলের ছেলে অমিত শীল (২২), সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন গল্লামারী ঋষিপাড়ার নরেন্দ্রনাথ দাশের দুই ছেলে তাপস দাশ (৩৫) ও প্রসেনজিত দাশ (২৯)।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন, ‘আইচগাতী ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে অতিরিক্ত মদপানে ইন্দ্রানী বিশ্বাস, দিপ্ত দাস ও পরিমল দাস নামে তিনজনের গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থাবস্থায় পরিমল দাসকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে এবং ইন্দ্রানী, দিপ্ত দাসকে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।’
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম বাহার বুলবুল জানান, ‘অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে সদর থানা এলাকায় সুজন শীল, রাজু বিশ্বাস ও অমিত শীল নামে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।’
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমতাজুল হক জানান, ‘গল্লামারী ঋষিপাড়া এলাকায় অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে আপন দুই ভাই তাপস ও প্রসেনজিৎ’র মৃত্যু হয়েছে।’
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (খুমেক) চিকিৎসক ডা. আলমগীর ও ডা. ওমর ফারুক জানান, ‘পরিমল দাস, সুজন শীল, রাজু বিশ্বাস, তাপস দাশ ও প্রসেনজিত দাশ মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তারা দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীতে আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে মদ পান করেছিলেন। অতিরিক্ত মদ্যপানে তাদের এমনটি হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।’
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের ডাঃ খালেদ মাহমুদ জানান, ‘আইসিইউতে ভর্তি থাকা অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় রায়পাড়া ক্রস রোডের অমিত শীলের মৃত্যু হয়েছে।’
এদিকে ইন্দ্রানী বিশ্বাস নামে রাজাপুর গ্রামের এক মহিলাকে সকাল ৮টায় খুমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিলো। সেখানে অবস্থা খারাপ দেখে স্বজনরা তাদের দায়িত্বে নিয়ে গিয়েছিলো। পরে সন্ধ্যার দিকে গাজী মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মৃত অবস্থায়।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম আব্দুর রাজ্জাক জানান, ‘মঙ্গলবার রাতে বিজয়া দশমীর উচ্ছ্বাসে তারা নিজ নিজ বাসায় বসে মদ পান করেন। অতিরিক্ত মদ পান করায় তারা অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। এরপর তাদের সবাইকে পৃথকভাবে রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে দুইজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর রাতেই মৃত ঘোষণা করা হয় এবং ছয়জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।’
এদিকে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের পরও খুলনায় এত মদ কোথা থেকে পাওয়া গেলো এবং মদে কি মেশানো ছিলো- যাতে একদিনেই আট জনের মৃত্যু হলো তা নিয়ে জনমনে প্রশ্নের দেখা দিয়েছে।