খুলনার পশুরহাটে চাহিদা মেটাচ্ছে নড়াইলের গরু

0
88

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিন্ধি, ফ্রিজিয়ান, জার্সি ও দেশীয় নানা প্রজাতির গরুর আমদানী হয়েছে খুলনার তেরখাদা, দিঘলিয়া, ফুলতলা ও নগরীর জোড়াগেট বাজারে। গতকাল মঙ্গলবার নড়াইলের কালিয়া উপজেলার খোড়েলা, কদমতলা, মিনেপাড়া ও শেখ পাড়া গ্রাম থেকে এসব জাতের গরু এসেছে জেলার হাটগুলোতে। জেলায় এবারের কোরবানীতে ৪৫ হাজার ৭শ’ গরু ও ৩৮ হাজার ছাগলের চাহিদা। খুলনার নয় উপজেলায় ৩৪ হাজার ৯৪১ টি গরু ও পনের হাজার ছাগল প্রস্তুত হয়েছে। ঘাটতি পুরণ হবে নড়াইলের গরু দিয়ে।
নড়াইলে কালিয়া উপজেলার ব্যবসায়ী তসলিম শেখ গতকাল মঙ্গলবার সকালে সিন্ধি, ফ্রিজিয়ান ও দেশীয় জাতের তিনটি গরু জোড়াগেট পশুরহাটে আমদানি করেছে। গ্রামে এসব জাতের গরু এক বছর ধরে মোটাতাজাকরণ করেছে। প্রতিটির পেছনে দৈনিক খাবার বাবদ খরচ হয়েছে ৫শ’ টাকা। প্রত্যেকটি গরুর দাম হেঁকেছে গড়ে চার লাখ টাকা করে। একই উপজেলার খোড়েলা গ্রামের আবুল কাশেম ও রানা মোল্লা দুটি করে চারটি গরু আমদানী করেছে জোড়াগেট হাটে। তারাও প্রতিটির দাম হেকেছে গড়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করে। খামারিদের দাবি প্রত্যেকটিতে গড়ে ৫ মন করে মাংস হবে। ২০১৮ সালের লোকসান এবার তারা কাটিয়ে নিতে চায়।
মঙ্গলবার বিকেলে জোড়াগেট পশুরহাটের উদ্বোধন হয়। ১২ আগস্ট সকাল পর্যন্ত হাট চলবে। হাটের নিরাপত্তার জন্য র‌্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্প ও কেএমপির অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে। হাসিল নির্ধারন করা হয়েছে শতকরা ৫ টাকা।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সূত্র জানান, জেলার প্রত্যেকটি হাটে পশুর শরিরে অপদ্রব্য আছে কিনা তা পরিক্ষার জন্য একটি করে মেডিকেল টিম কাজ করছে। অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুদ করে রাখা হয়েছে। ২০১৮ সালে খুলনা জেলায় ৪৫ হাজার ৮০৭টি গরু ও মহিষ, ৩৮ হাজার ২৪৩টি ছাগল ভেড়া কুরবানী হয়। ২০১৭ সালে কুরবানীর পরিমান ছিল ৭৯ হাজার ৯৫০ টি।
জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সূত্র মতে, উপজেলা পর্যায়ের হাটগুলো হচ্ছে ফুলতলা উপজেলার সদর, তাজপুর, রূপসা উপজেলার পূর্ব রূপসা, দূর্জনীমহল আমতলা, দক্ষিণ খাজাডাঙ্গা খাদেমতলা, আলাইপুর ব্রীজের নিচে, দিঘলিয়া উপজেলার পথের বাজার, মোল্লাডাঙ্গা, বারাকপুর হরিপদ মাঠ, এমএ মজিদ কলেজ মাঠ, মোল্লা জালাল উদ্দিন কলেজ মাঠ, যোগীপোল বালুরহাট, তেরখাদা উপজেলার ইখড়ি কাটেঙ্গা, বিলদুলিয়া, দাকোপ উপজেলার চালনা বাজার, বাজুয়া বাজার, ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর, খর্ণিয়া, আঠারো মাইল, চুকনগর, বানিয়াখালী কলেজ মাঠ, বটিয়াঘাটা উপজেলার খারাবাদ বাইনতলা, ভান্ডার কোট, বটিয়াঘাটা উপজেলা সদর, পাইকগাছা উপজেলার জিরোপয়েন্ট, চাঁদখালী, কাশিমনগর, গদাইপুর, বাঁকাবাজার, কয়রা উপজেলার ঘুগরাকাঠি ইসলামপুর, বাগালী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ, দেউলিয়া বাজার, উত্তর বেদকাশী কাছারীবাড়ি, গিলেবাড়ী, হায়াতখালী, কয়রা জিআইবি ক্লাব মাঠে গরুর হাট বসেছে। এবছর জেলায় ৩৭টি পশুর হাট বসেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোঃ আনিচুর রহমান জানান, ক্রেতা বিক্রেতার স্বার্থে তিন স্থরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পশুবাহী ট্রাক তাদের পছন্দমত হাটে গরু নামাতে পারবে। এক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষ থেকে কোন হস্তক্ষেপ করা হবে না। জাল টাকা শনাক্তকরণে মেশিন বসানো হয়েছে।
খুলনা জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার কোহিনুজ্জামান বলেন, স্থায়ী হাটের পাশাপাশি ৬টি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির গত ২১ জুলাই সভায় উল্লেখ করা হয় প্রধান প্রধান হাটের পাশে মেডিকেল টিম রাখা হয়েছে। মেডিকেল টিমের নির্দিষ্ট স্থানে ব্যানার সাটানো আছে। সভায় বলা হয়। পশুর চামড়া নির্ধারিত দামে ক্রয় করতে হবে। এছাড়াও এতিমখানা, মাদ্রাসাসহ অন্যান্যরা যাতে পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য পায় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে।


একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here