কয়রায় ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে ব্যাপক ঘড়বাড়ি বিধ্বস্ত পাউবোর বেঁড়িবাধে ফাটল আতঙ্কিত এলাকাবাসি

0
155

ওবায়দুল কবির(সম্রাট):কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধিঃ

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ তান্ডব চালিয়েছে খুলনার কয়রায়। ঝড়ের আঘাতে কয়রা সদর সহ উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে ৮ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি। হাজার হাজার গাছপালা ধ্বংস লীলায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিণত হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে পানিতে তলিয়ে গেছে মাছের অধিকাংশ ঘের ও ফসলি জমি। জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বহু এলাকায়। তার আগে থেকে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে কয়রা। এজন্য ঝড়কবলিত  কয়রাবাসী পড়েছে আরও দুর্ভোগে। পাউবোর বেঁড়িবাধে ভয়াবহ ফাটল ধরায় আতংকে রয়েছে উপকুলীয় কয়রাবাসী।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দিনগত রাতে উপকূলে আছড়ে পড়া বুলবুল রোববার ভোর থেকেই কয়রাজুড়ে তান্ডব চালায় বুলবুল। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়া এ  উপজেলায় সকাল ১০টা পর্যন্ত তীব্র বাতাস ও ভারী বর্ষণ চলে। ঝড়ের কারণে কয়রা সদরের দোকানপাট বন্ধ থাকতে দেখা যায়। গাছ উপড়ে পড়েছে বহু এলাকায়।
কয়রা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ জাফর রানা বলেন, কয়রায় ৭টি ইউনিয়নের অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ হয়েছে। ঝড়ে  এ সকল ইউনিয়নের আধাপাকা ঘরবাড়ি, এবং গাছপালা বেশি ভেঙে গেছে। তবে কোথাও বেড়িবাঁধ ভাঙেনি। এছাড়া অধিকাংশ সড়কে গাছ উপড়ে পড়েছে। তবে যান চলাচল রাখতে সড়কের গাছ সরিয়ে ফেলানো হয়েছে। বেসরকারি সংস্থার তথ্যমতে কয়রায় বুলবুলের আঘাতে ২৮ শ ঘরবাড়ি পুরো বিধ্বস্থ ও ৪ হাজার ৬ শ আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে  ১৭ শ ২০ হেক্টর জমির আমন ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি ১ শ ৬০ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া মুরগীর ফার্মের ক্ষতি হওয়া ছাড়া হাঁস মুরগী ও ছাগলের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মাধ্যমিক ও মাদাসার ১৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউপি চেয়ারম্যান জিএম কবি শামছুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে তার ইউনিয়নে ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। বড় ধরনের গাছ ভেঙে পড়েছে। অনেকের বসতবাড়ি ও মাছের ঘের বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া জোড়শিং, আংটিহারা, মেদেরচর, চোরামুখা ও ঘড়িলাল বেড়িবাঁধে আঘাত আনায় এ সকল বাঁধ ব্যাপক ঝুকিপুর্ন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া কয়রার হরিনখোলা, গোবরা, ঘাটাখালী, মদিনাবাদ লঞ্চঘাট, মহারাজপুর ইউনিয়নের লোকা, মঠবাড়ি, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের গীলবাড়ি, শেখের টেক পাউবোর বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাঃ হুমায়ুন কবির বলেন, গতকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই, তবে মধ্য রাত থেকে কয়রা এলাকার বিভিন্ন স্থানে একটির পর একটি গাছ উপচে পড়ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে শীতকালীন সবজির ক্ষেত, ধানের ক্ষেত, মৎস্য ঘেরসহ ফসলি জমি। এসব জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অনেক ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ হয়েছে। এতে করে ঐ সকল অসহায় লোকজন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। উত্তর বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানী বলেন, গাজীপাড়া, কাটকাটা, গাববুনিয়া সহ  বিভিন্ন এলাকার পাউবোর বেড়িবাধ ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কারনে ভাংগন কবলিত এলাকার জনসাধারন রয়েছে আতংকে। উপজেলা মৎস্য অফিসার এস এম আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বুলবুলের আঘাতে কয়রায় ৩২ শ ৪০ টি মৎস্য ঘের তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৪৪ কোটি টাকার মৎস্যখাতে ক্ষতি হয়েছে। কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা বলেন,কয়রার ৭টি ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পুর্ণবাসন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে সরকারিভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতা করা হবে।

কয়রা(খুলনা)
তাং-১১-১১-১৯ ইং।