করোনায় আরও ৩৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৬৯৫

0
106

খুলনাটাইমস ডেস্ক:
দেশে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এত সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হলো। এতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৭৪৬ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৬৯৫ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৫ হাজার ১৪০ জনে। গতকাল বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন। তিনি ৫০টি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫ হাজার১০৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১২ হাজার ৫১০টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো তিন লাখ ৪৫ হাজার ৫৮৩টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে আরও দুই হাজার ৬৯৫ জনের দেহে। ফলে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৫৫ হাজার ১৪০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৭ জনের। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৭৪৬ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ৪৭০ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১১ হাজার ৫৯০ জনে। এদিকে গত কয়েক দিন দেশে মোট ৫২টি পিসিআর ল্যাবে করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা হতো। তবে গতকাল বুধবার ৫০টি ল্যাবের পরীক্ষার ফল পাওয়া গেছে। দুটির ফল পাওয়া যায়নি। ফল না পাওয়া দুটি পরীক্ষাগার হলো- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং জামালপুরের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ। এর মধ্যে ঢাবির ল্যাবে আর পরীক্ষা করা হবে না এবং শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের ল্যাবটিতে যান্ত্রিক ত্রæটির কারণে পরীক্ষা হয়নি। ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে পরীক্ষাগারটি ছিল, তারা বিশেষ কারণে এই পরীক্ষাগারটির কার্যক্রম আর চালাবেন না বলে আমাদের জানিয়েছেন। কাজেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারের রিপোর্ট আর আমাদের কাছে থাকবে না। জামালপুরের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ পরীক্ষাগারের মেশিনটি টেকনিক্যাল কারণে কাজ করছে না। মেশিনটি কার্যকর হলে আমরা আবার তাদের রিপোর্ট দেব। আজকে আমরা ৫০টি পিসিআর ল্যাবের নমুনা পরীক্ষা ও এর ফলাফল দেব। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার চিত্র তুলে ধরে নাসিমা সুলতানা বলেন, ৫০টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৫ হাজার ১০৩টি। ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৫১০টি নমুনা। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫৮৩টি, যা নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তাতে শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৯৫ জন এবং এ পর্যন্ত শনাক্ত ৫৫ হাজার ১৪০ জন। শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ৪৭০ জন এবং এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৫৯০ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ০২ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৭ জন এবং এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৪৬ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। গত মঙ্গলবারের বুলেটিনে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ জন মারা গেছেন। ১২ হাজার ৭০৪টি নমুনা পরীক্ষায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে আরও দুই হাজার ৯১১ জনের দেহে। যা একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। সে হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু সমানসংখ্যক থাকলেও কমেছে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড আছে ৪০ জনের। সেটি জানানো হয় ৩১ মে’র বুলেটিনে। এদিকে ড. নাসিমা জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীর মৃতদেহের সৎকার যেকোনো জায়গায় করা যাবে। মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা গোরস্থানে কিংবা পারিবারিক কবরস্থানে মৃতদেহ দাফন করতে পারবেন। আর অন্য ধর্মাবলম্বীরাও তাদের তাদের বিধি অনুযায়ী যেকোনো জায়গায় মৃতদেহের সৎকার করতে পারবেন। তিনি বলেন, করোনায় মৃত ব্যক্তির দাফন, সৎকার বা ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা স্বাস্থ্য সেবা অধিদফতর (ডিজিএইচএস) ওয়েবসাইটে আছে। তবুও বিশেষভাবে সকলের অবগতির জন্য বলতে চাই, মৃতদেহ নিজ নিজ ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করে দাফন বা সৎকার করা যায়। নিয়ম অনুযায়ী মৃতদেহের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে বডি ব্যাগ বা তা না পাওয়া গেলে পলিথিনে মুড়িয়ে স্থানান্তর জন্য মনোনীত কবরস্থান বা পারিবারিকভাবে নির্ধারিত স্থানে মৃতদেহ দাফন করা যাবে। শুধুমাত্র করোনায় মৃত হিসেবে আলাদা কোনো কবরস্থান নির্দিষ্ট করার কোনো দরকার নাই। পারিবারিক কবরস্থানেই এই মৃতদেহ দাফন করা যাবে এবং অন্য ধর্মের জন্য সৎকার করা যাবে। নাসিমা সুলতানা আরও বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিøউএইচও) বলেছে, এটা প্রমাণিত হয়নি মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে। মৃতদেহ সৎকার করতে ৩/৪ ঘণ্টা সময় লেগেই যায়। ৩ ঘণ্টা পরে এই ভাইরাসের আর কার্যকারিতা থাকে না মৃতদেহের শরীরে। সেজন্য মৃতদেহ থেকে ভাইরাস ছড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। মাস্ক ব্যবহারের অর্থনৈতিক সুবিধার চিত্র তুলে ধরে নাসিমা সুলতানা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক বলেছেন যে, একজন মাস্ক ব্যবহার করলে তার অর্থনৈতিক উপকার হয় ৩ হাজার (২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা) থেকে ৬ হাজার (৫ লাখ ১০ হাজার টাকা) ইউএস ডলার। কারণ মাস্ক ব্যবহার করলেই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। রোগ প্রতিরোধের ফলে আক্রান্ত না হওয়ায় এতগুলো অর্থ সাশ্রয় করা যায়। ঘরে তৈরি কাপড়ের মাস্ক বৈজ্ঞানিকভাবে স্বাস্থ্যসম্মত। ঘরে তৈরি মাস্ক আমরা ব্যবহার করতে পারি। ঘরের পুরনো কাপড় দিয়েও তিন স্তরবিশিষ্ট মাস্ক তৈরি করে পরা যায়। এ ক্ষেত্রে বলা যায়, এক টাকা মাস্কের পেছনে খরচ করলে আমরা ১ হাজার টাকার উপকার পাবো। কারণ এই মাস্ক ব্যবহার করে আমি আমার রোগ প্রতিরোধ করতে পারবো। তিনি বলেন, এখনও দেখা যাচ্ছে, অনেক মানুষ চায়ের দোকানে, যেকোনো আড্ডায় অনেকেই মাস্ক পরিধান করছেন না। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে মাস্ক একটি প্রধান অস্ত্র। আমরা কখনোই এটিকে অবহেলা করতে পারি না। এটি একটি প্রধানতম নিয়ামক এই সংক্রমণকে প্রতিরোধ করার। তার সাথে জনসমাবেশ এড়িয়ে চলা, ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা, তা না পারলে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। ডা. নাসিমা বরাবরের মতোই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানান। এদিকে রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিকে ২০০০ শয্যার করোনা হাসপাতালে রূপান্তর করে সেখানো সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারকে হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়েছে। এ হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখানে দুই হাজার শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রকোপে গোটা বিশ্ব এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। চীনের উহান শহর থেকে গত ডিসেম্বরে ছড়ানোর পর এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় পৌনে ৬৫ লাখ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে তিন লাখ ৮২ হাজার। তবে পৌনে ৩১ লাখের মতো রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ।