করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কারুপণ্যের বিনামূল্যে ১০ লাখ মাস্ক বিতরণ

0
54

খুলনাটাইমস ডেস্ক : করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে রপ্তানীমুখী হস্তশিল্প প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ’কারুপণ্য রংপুর লিমিটেড’ রংপুর বিভাগের আট জেলায় বিনামূল্যে ১০ লাখ পিছ মাস্ক বিতরন করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এছাড়াও, মাত্র এক মাসের কম সময়ে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের উৎপাদিত প্রায় ৮ টন হ্যান্ডওয়াশ নামমাত্র ৫০ টাকা লিটার দরে জনগণের কাছে বিক্রি করে বর্তমান দূর্যোগকালীন সময়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। কারুপণ্য রংপুর লিমিটেড এর মুখপাত্র এবং দৈনিক যুগান্তর-এর রংপুর ব্যুরো প্রধান মাহবুব রহমান হাবু বাসসকে জানান, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিুকুল আলম সেলিমের দিক নির্দেশনায় উদ্ভুত করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে এ কর্মসূচি গ্রহন করা হয়। উক্ত কর্মসূচি করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন মোতাবেক ভবিষ্যতে অব্যাহত রাখার জন্য প্রস্তুতি রয়েছে। সাশ্রয়ীমূল্যে হ্যান্ডওয়াশ বিক্রয় ও উৎপাদন কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিেিতিত বাংলাদশে মাস্কের অগ্নিমূল্য ঠেকাতে কারুপণ্য রংপুর লিমিটেড নিজেদের কারখানায় তৈরি ১০ লাখ পিছ মাস্ক বিনামূল্যে বিতরণ কর্মসূচি শুরু করে। রংপুর মেট্রোপলিটন কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সহযোগিতায় গত ১২ মার্চ রংপুর মহানগরীর মেডিকেল মোড়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশানার আব্দুল আলীম মাহমুদ। প্রথম দিনে নগরীর প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের মাঝে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়। প্রথম পর্যায়ে গতকাল শনিবার ১০ লাখ পিছ মাস্ক বিতরণের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শেষ হয় উল্লেখ করে মাহবুব রহমান জানান, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এজন্য তাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। তবে, সাশ্রয়ীমূল্যে হ্যান্ডওয়াশ বিক্রয় ও উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মাহবুব রহমান আরো জানান, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের মাধ্যমে কারুপণ্যের দেয়া ৯০ হাজার পিছ মাস্ক রংপুর বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জাকির হোসেনের সহযোগিতায় রংপুর বিভাগের আট জেলায় বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। তিনি জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হলে বাজারে সৃষ্ট সংকটে হ্যান্ডওয়াশের অগ্নিমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষ তখন ৩শ’ টাকা লিটার দরেও ক্রয় করতে পারছিলেন না। তখন কারুপণ্য নিজ উদ্যোগে রংপুরের কারখানায় ৫০ টাকা লিটার দরে সাশ্রয়ী মূল্যে হ্যান্ডওয়াশ তৈরি করে তা বিতরণ শুরু করে। এই হ্যান্ডওয়াশ রংপুর পুলিশ লাইন্স, মেট্রাপলিটান পুলিশ লইন্স, বিভাগীয় কমিশানারের দপ্তর, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশানারের দপ্তর, জেলা পুলিশের দপ্তরসহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ক্রয় করে সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করেন। এ প্রসঙ্গে বাসসের সাথে আলাপকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল আলীম মাহমুদ বলেন, বেসরকারী পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত রপ্তানীমুখী হস্তশিল্প প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ’কারুপণ্য রংপুর লিমিটেড’ নিজেদের তৈরি করা ১০ লাখ মাস্ক বিনামূল্যে বিতরণ করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মাধ্যমে নগরীর ছয়টি থানা এলাকায় ’কারুপণ্য রংপুর লিমিটেড’ এর দেয়া সাড়ে ৩ লাখ মাস্ক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। তিনি বলেন, সর্দি-কাশি মানেই করোনার সংক্রমণ নয়। বাংলাদেশসহ উত্তর গোলার্ধের অন্যান্য এলাকায় এই সময়টায় এমনিতেই সর্দি-কাশির প্রাদুর্ভাব থাকে। ফলে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সাথে অনেকসময় সাধারণ ফ্লু-কে মিলিয়ে ফেলার সম্ভাবনা থেকে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশ কোনো বিশেষ চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হন। একারণে আতঙ্কিত না হয়ে সকলকে সরকারের নির্দেশিত স্বাস্ত্য বিধি মেনে চলা, ঘরে থাকাসহ সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। সর্দি-কাশি, জ্বরে এবং ধুলোবালু ও জীবাণু মুক্ত থাকতে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। ’কারুপণ্য রংপুর লিমিটেড’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিুকুল আলম সেলিম জানান, প্রায় তিন দশক আগে রংপুর অঞ্চলে ’মঙ্গা’ দূরীকরণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। দেশে উৎপদিত পাট প্রধানত: (শতকরা ৮০ ভাগ) কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি সিপনিং মিলের বর্জ সূতা এবং গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর ঝুট ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতক মানসম্পন্ন শতরঞ্জিসহ বিভিন্ন ম্যাট ও বাসা-বাড়ীতে ব্যবহারের জন্য অন্যান্য জিনিষ উৎপাদন করছে। প্রায় ২০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত শতভাগ পণ্য বিশ্বের ছয়টি মহাদেশের ৭১ টি রপ্তানি হচ্ছে। এতে করে প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে দেশের অর্থনীতিকে অব্যাহত ভাবে শক্তিশালী করে চলেছে। প্রতিষ্ঠানটির রংপুর মহানগরীর রবার্টসন্সগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত প্রধান কারখানাসহ রংপুরের পীরগাছা, লাহিরীরহাট এবং পদাগঞ্জ এবং কুড়িগ্রামের উলিপুরে অবস্থিত কারখানাগুলোতে বর্তমানে প্রায় দশ হাজার র্কর্মী কাজ করছেন। এদের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ নারী। কর্মসংস্থান হওয়া এসব কর্মী এবং প্রতিষ্ঠানটিতে কাঁচামাল সরবরাহসহ বিভিন্নভাবে পরোক্ষ কাজে জড়িত মানুষদের মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার পরিবার মঙ্গা বা অতি দারিদ্রতা জয় করে এখন সচ্ছল জীবন-যাপন করছেন। তিনি বলেন, ’কারুপণ্য রংপুর লিমিটেড করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে নিজেদের উৎপাদিত মাস্ক বিনামূল্যে বিতরন এবং নামমাত্র মূল্যে হ্যান্ডওয়াশ বাজারজাত করে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের মাধ্যমে এ মহামারী থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে সামান্য হলেও অবদান রাখার চেষ্টা করছে।’