আমি ব্যাটিং করতে পছন্দ করি: স্মিথ

0
29

খুলনাটাইমস স্পোর্টস: ‘আমি ব্যাটিং করতে পছন্দ করি, ক্রিকেট খেলা দেখতে নয়’- সহজ সরল উক্তি করলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের। বল বিকৃতির কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ১৭ মাস পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেই ব্যাট হাতে চলমান অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্মিথ যা করে চলেছেন, তা যেন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। তিন ম্যাচের পাঁচ ইনিংসে ৩টি সেঞ্চুরি (১টি ডাবল) ও ২টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৬৭১ রান করেছেন টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষ স্থান পুনরায় দখল করা স্মিথ। তার ব্যাটিং ঝলকে প্রথম ও চতুর্থ টেস্ট জিতে অ্যাশেজ শিরোপা ইতোমধ্যেই নিজেদের করেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন দলের বাইরে খাকায়, মন ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে স্মিথের। তাই মাঠে ফিরেই বুঝিয়ে দিলেন ক্রিকেট থেকে দূরে থাকাটা কতটা কষ্টের, কতটা বেদনার। ব্যাট হাতে জ¦লে উঠে, রানের ফুলঝুড়ি ফুটিয়ে সমালোচকদের মোক্ষম জবাব দিয়েই যাচ্ছেন স্মিথ। ২০১৮ সালের ২২ মার্চ কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চার ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় টেস্টে বল বিকৃতির সাথে জড়িয়ে পড়েন স্মিথ। তার সাথে ছিলেন তারই তৎকালীন ডেপুটি ডেভিড ওয়ার্নার। দু’জনে মিলে তরুণ ক্যামেরন বেনক্রফটকে দিয়ে বল বিকৃতি করেন। পরে টিভি ক্যামেরায় তা ধরা পড়লে, পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের দোষ স্বীকার করেন স্মিথ-ওয়ার্নার-বেনক্রফট। ফলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) বেনক্রফটকে নয়মাস, স্মিথ-ওয়ার্নারকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেন। এতে ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে শংকায় পড়ে যান তারা। তবে সামনে ছিলো ওয়ানডে বিশ্বকাপ। তাই প্রশ্ন জাগে, ইংল্যান্ডের ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন কি-না স্মিথ-ওয়ার্নাররা। অবশ্য বিশ্বকাপের আগেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে যায় তাদের। তাই ওয়ানডে বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছিলেন স্মিথ-ওয়ার্নার। বিশ্বকাপে ওয়ার্নারের ব্যাট কথা বললে, আহামরি কিছু করতে পারেননি স্মিথ। বিশ্বকাপ শেষে অ্যাশেজের দলেও সুযোগ পান স্মিথ-ওয়ার্নার। ওয়ার্নার ব্যাট হাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হলেও, বিধ্বংসী এক রূপ নিয়ে আছেন স্মিথ। বার্মিংহামে প্রথম টেস্টে ১৪৪ ও ১৪২, লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টর প্রথম ইনিংসে ৯২, দ্বিতীয় ইনিংসে ইনজুরিতে খেলতে পারেননি। পরে তৃতীয় টেস্টেও সুযোগ হয়নি তার। আর চতুর্থ টেস্টে ২১১ ও ৮২ রান করেন স্মিথ। তার এই রানের ফুলঝুড়িতে বিস্মিত ক্রিকেট বিশ্ব। কেউই ভাবেননি এমন দাপটের সাথে নিজের প্রত্যাবর্তন ঘটাবেন স্মিথ। বিশ্বকাপ চলাকালীন গ্যালারি থেকে ‘প্রতারক-প্রতারক’ বিদ্রুপ শুনেছেন। অ্যাশেজ শুরুর পরও সেই গ্যালারি থেকে লজ্জা পাবার মত কথা শুনতে হয়েছে স্মিথকে। কিন্তু তিনি যে স্মিথ, ভেঙ্গে পড়েননি। সবকিছুর জবাব ২২ গজে ব্যাট হাতে দিয়েছেন। দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করে অ্যাশেজ নিজের দেশেই রাখতে দলের হয়ে মহাগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেন স্মিথ। ফলে চতুর্থ টেস্ট শেষে অনেক বেশি উচ্ছ্বসিত স্মিথ। তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে মাঠের বাইরে বসে দলের হার দেখতে ভাল লাগেনি। কিন্তু আজ যে অনুভূতি হচ্ছে, তা ভাষায় বুঝাতে পারবো না। এই ছেলেদের সঙ্গে থাকতে পেরে রীতিমতো গর্ব হচ্ছে আমরা।’ ক্রিকেট খেলা দেখতে নয়, ব্যাট হাতে সব সময় দলকে সাফল্য এনে দিতে বদ্ধপরিকর থাকেন বলে জানান স্মিথ, ‘আমি ব্যাটিংকে খুব ভালোবাসি। বড় স্কোর করতে পছন্দ করি। যাতে দল সাফল্য পায়। তবে মাঠের বাইরে বসে খেলা দেখতে আমার ভালো লাগে না। ওভালে খেলতে চাই, আবারো ভালো রান করতে মুখিয়ে আছি। কারণ আমরা এখানে অ্যাশেজ জিততে এসেছি।’ দ্বিতীয় টেস্টে ইনজুরিতে পড়ায় তৃতীয় ম্যাচে খেলতে পারেননি স্মিথ। তাই মন খারাপ ছিলো তার। তবে মাঠে ফেরার জন্য উদগ্রীব ছিলেন তিনি। আর মাঠে ফিরেই দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে অত্যন্ত খুশী স্মিথ, ‘আমি গেল সপ্তাহে ভালো ছিলাম না। কোন কিছুই উপভোগ্য ছিলো না। মাঠে ফেরার জন্য অস্থির ছিলাম। মাঠে ফিরতে পেরেছি, অস্ট্রেলিয়ার জয় দেখতে পেলাম। আজকের অনুভূতিটা অনেক বেশি সুন্দর ও উপভোগ্য। ২০১৩-১৫ সালে আমরা ভালো করতে পারিনি এখানে। এবার ছেলেরা দল হিসেবে খেলেছে। তাই অ্যাশেজ আমরা ধরে রাখতে পারলাম।’ এবারের অ্যাশেজ সিরিজটি অন্যরকম আবেগের বলে মনে করেন স্মিথ, ‘গেল এক বছর আমরা অনেক উথান-পতনের মধ্যে ছিলাম। তাই এবারের সিরিজটি অন্যরকম আবেগের ছিলো। আমি গর্বিত এবারের সিরিজে দলের অংশ হতে পেরে। আমি জানি না কি ছিলো জয়ের মন্ত্র, তবে এটি বলতে পারি ছেলেরা ভালো খেলতে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিলো এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে চেয়েছিলো। কঠোর পরিশ্রমের পুরস্কার অনেক বেশি আনন্দায়ক। এটি একটি দারুন সিরিজ। সকলেই উপভোগ করেছে।’ অধিনায়ক টিম পাইনের প্রশংসা করতে ভুল করেননি স্মিথ। তিনি বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে দারুন করেছে টিম। দলকে একত্র রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে সে। সবাইকে চাপমুক্ত রেখে খেলতে সহায়তা করেছে টিম।’ অ্যাশেজ নিজেদের কাছে রেখে দেয়া নিশ্চিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। কারণ শেষ ম্যাচ জিতলেও সিরিজ হারবে না অসিরা। তাই গেল বার অ্যাশেজ জয়ে ট্রফির মালিক অস্ট্রেলিয়াই থাকছে। কিন্তু সিরিজ জয় দিয়ে অ্যাশেজ শেষ করতে চান স্মিথ। ইংল্যান্ডের মাটিতে ১৮ বছর সিরিজ জিততে না পারার বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতে চান তিনি, ‘এবার এখানে অনেক পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এসেছি। আমাদের পরিকল্পনার মূল প্রতিপাদ্য ছিলো, অ্যাশেজ জয় করা। কারণ ইংল্যান্ডের মাটিতে ২০০১ সালে সর্বশেষ সিরিজ জিতেছিলাম। দীর্ঘদিন প্রতিপক্ষের মাটিতে অ্যাশেজ জিততে না পারার বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতে চাই আমরা। তাই ওভালে শেষ ম্যাচেও সেরাটা দিতে দল কার্পণ্য করবে না।’


একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here