অষ্টম এশিয়া কাপের ফাইনালে ম্যাচসেরা খুলনার মেয়ে রুমানা আহম্মেদ

0
130

ফকির শহিদুল ইসলামঃ অষ্টম এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশকে উৎসবে ভাসালেন সালমা রহমানের টি-টুয়েন্টি দল। প্রশ্ন নেই, এটাই বাংলাদেশের মেয়েদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবজনক ও ঐতিহাসিক কীর্তি। আর এই গৌরবজনক ও ঐতিহাসিক কীর্তি জয়ের মূল ভূমিক রেখেছেন খুলনার মেয়ে রুমানা আহম্মেদ । ২২ রান খরচ করে ২ উইকেট- অল রাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কারটি উঠেছে রুমানার হাতে । আর এই জয়ের আনন্দে আত্মহারা রুমানার পরিবার । টিভির স্কিনে টান টান উত্তেজনাকর এ ম্যাচের দিকেই তাকিয়ে ছিলেন তার মা জাহানারা বেগম । রুমানা তার মাকে সব সময় বলতেন মা আমি বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেটদলকে একটি উচ্চতায় নিয়ে যাবো । তিনি আবেগ জরিত কন্ঠে বলেন,আমার মেয়ে সব সময় আত্ম বিশ্বাস ছিল সে মহিলা ক্রিকেটে ভাল পারফরম্যান্স করবে । আজ অষ্টম এশিয়াকাপে রুমানা আত্ম বিশ্বাসের পারফরম্যান্স করে তার স্বাক্ষর রেখেছে । আমরা পরিবার থেকে সব সময় ওকে উৎসাহ দিতাম যাতে রুমানা আরো আত্ম বিশ্বাসী হউক এবং দেশের জন্য গৌরব বয়ে নিয়ে আসে । আজ শাসরুদ্ধকর ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে এশিয়ার রানী হয়ে গেলেন বাংলার বাঘিনীরা। ২২ রান খরচ করে ২ উইকেট- অল রাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন খুলনার খালিশপুরের নয়াবাটির মৃত শেখ হাতেম আহম্মেদের কন্যা রুমানা আহম্মেদ । এটাই বাংলাদেশের মেয়েদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবজনক ও ঐতিহাসিক কীর্তি।
জানাগেছে,খুলনার খালিশপুর নয়াবটি শেখ বাড়িতে বেড়ে ওঠা রুমানা আহম্মেদ কৈশর বয়স থেকেই বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করে বেড়াতো। চার ভাই বোনের রুমানা নবার ছোট মেয়ে। তার বড় ভাই ইতালি প্রবাসী ইফতেখার হোসেন, বড় বোন গৃহিনী সেলিনা আহম্মেদ, আর মেঝো বোন সুমনা আহম্মেদ গৃহিনী। বাবা ছিলেন পেশায় একজন ঠিকাদার। বাবার জীবদ্দশায় রুমানা বভিাগীয় পর্যায়ে মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে নাম লেখান । মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে নাম লেখার ছয় মাসের মাথায় জাতীয় দলে সুযোগ পায় রুমানা। এর কিছু দিনের মাথায় বার্ধক্যজনিত রোগে তার বাবা মৃত্যু বরণ করেন। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট জগতে যোগদান করেন এবং ছয় মাসের মাথায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে সুযোগ পায়। তার বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে আসার পিছনে সব চেয়ে বেশী অবদান ছিলো খুলনার কোচ ইমতিয়াজ আলম পিলুর এমনাটাই জানান তর পরিবার। খালিশপুরের রোটারী স্কুলে এস এস সি, ইসলামিয়া কলেজে এইচ এস সি এবং বর্তমানে নর্দান ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজীতে অনার্স ৪র্থ বর্ষে অধ্যায়নরত আছে।

 

রুমানার ছোট বোন সুমনা জানান, খেলা শেষ হওয়ার পর ই রুমানার সাথে কথা হয়।ও বেশ উচ্ছসিত এবং আনন্দিত যে ভারতের মত একটি দলের সাথে ফাইনালে খেলে আজ এশিয়াকাপ ছিনিয়ে এনেছে । রুমানা ম্যান অব দা ম্যাচ হওয়ায় আমাদের পরিবার খুব খূশি।

 

মেয়ের এমন খুশির কথা জানতে চাই রুমানার মা জেহানারা বেগমের কাছে তিনি বলেন, রুমানা খেলা শেষ করে রুমে যেতে কল করেছিলো তখন বললো। মা আমি আরো আগে কল দিতে চেয়েছিলাম পারিনি তুমি কষ্ট পেয়েনা। আমি ম্যান অব দা ম্যাচ হেয়েছি আমি বলে বুঝাতে পারবো আমি কতটা আনন্দিত। তিনি আরো বলেন, রুমানা ছোট বেলা থেকেই খেলার প্রতি একটা আলাদা টান ছিলো। মূলত শখের বসেই খেলতে খেলতে ও জাতীয় টিমে চলে যায়। ওকে বলি বয়স তো অনেক হলো এবার বিয়ে কর। কিন্তু ও বলে মা বিয়ে করবো। আমার কাঙ্খিত লক্ষে পৌছানোর অপেক্ষায় আছি। সেগুলো আগে পুরন হোক তারপর বিয়ে করবো। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ক্রিকেট খেলার জগতে প্রতিটি কাপ আমি আমার ঘরে আনতে চাই আর দলের ক্যাপ্টেন হয়ে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেটকে একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে যাবো। তারপর আমি সংসার ধর্মে মনোযােগ দিবো। এছাড়াও তিনি আরো বলেন, আজ ওর বাবা থাকলে অনেক খুশি হতো। তিনি সবসময় ওকে খেলার বিষয়ে সবধরনের সাপোর্ট করতো। কোন সময় বাধা দিতেন না।